দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাত্রী পারাপার আগামী ১৪ আগস্ট থেকে শুরু হবে। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) ভার্চুয়াল এক সভায় ইমিগ্রেশন চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম স্থলবন্দর এটি। পাহাড়ের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
রামগড় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কারবারী বলেন, পাহাড়ে বসবাসরত বহু ভাষাভাষী মানুষের অনেক স্বজন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে দুই দেশে, আছে সাংস্কৃতিক ভাব বিনিময়ও। ইমিগ্রেশন কার্যক্রম চালু হলে সে বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি পর্যটন খাতেরও বিকাশ ঘটবে।
মঙ্গলবার রামগড় ইমিগ্রেশন ভবনে আয়োজিত ভার্চুয়াল সভাটিতে অন্যদের মধ্যে ঢাকা থেকে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য ও রামগড় স্থলবন্দর প্রকল্প পরিচালক মো. সরওয়ার আলম, রামগড় ইমিগ্রেশন থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসমত জাহান তুহিন, ৪৩ বিজিবির সহকারী পরিচালক (এডি) রাজু আহমেদ, রামগড় থানার ওসি দেবপ্রিয় দাস, ইমিগ্রেশন ইনচার্জ মনির হোসেন, রামগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি শ্যামল রুদ্র প্রমুখ বক্তব্য দেন।
ভিডিও বক্তব্যে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘ইমিগ্রেশন হয়ে যাত্রী পারাপারে ভারত থেকে পত্র পেয়েছি, যা আগামী ১৪ আগস্ট উদ্বোধনের পর দুই দেশের নাগরিকেরা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সাপেক্ষে মৈত্রী সেতু-১ হয়ে পারাপারের সুযোগ পাবেন। প্রথমে যাত্রী চলাচল শুরু হচ্ছে। পরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি হলে পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থাও শুরু হবে। সেই লক্ষ্যে আমাদের কাজ চলছে।’
সি অ্যান্ড এফ ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ইমিগ্রেশন চালুর পর দ্রুত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু হলে উপকৃত হবে দুই দেশ। যাত্রীরা যাতে নিরাপদে আর্থিক লেনদেন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে মানি এক্সচেঞ্জ সুবিধা রাখার দাবি এই ব্যবসায়ী নেতার।
উল্লেখ্য, রামগড় স্থলবন্দর চালুর লক্ষ্যে সীমান্তের ফেনী নদীর ওপর ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু ১ চালু হয় ২০২১ সালের মার্চে। এই বন্দর চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে কম খরচে দ্রুত সময়ের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা যাবে ভারতের সেভেন সিস্টার্স খ্যাত দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য ত্রিপুরা, মেঘালয়, আসাম, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচলের সঙ্গে।

-পার্বত্য সময়