সরকার পতনের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে বিরোধীরা প্রবাসীদের রেমিট্যান্স না পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেছে। সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা। কিন্তু এরই মধ্যে এ আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার আশংকা করছে আন্দোলনকারীদের একাংশ।
বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত প্রবাসীদের পাঠানো মুদ্রা। কিন্তু দেশজুড়ে চলমান সহিংসতা ঘিরে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স না পাঠানোর ডাক দিয়েছে সরকার বিরোধীদের একাংশ। যুক্তি হিসেবে তারা বলছে, এ সহিংসতার দায় সরকারের। রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ করলে সরকার রিজার্ভ সংকটে ভুগবে। তাদের ধারণা, অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে সরকারের দ্রুত পতন হবে। 
কিন্তু আন্দোলন উদ্যোক্তাদের একাংশের ধারণা, জনমনে সাড়া ফেললেও এ আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ আছে। তারা মনে করছেন, বাংলাদেশের প্রায় ২ কোটি প্রবাসী বিভিন্ন দেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে বড় ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু বিভিন্ন দেশের এত বিপুল সংখ্যক প্রবাসীকে এক ছাতার নিচে আনা সম্ভব নয়। 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রবাসীদের টার্গেট করে এ আন্দোলনের এক উদ্যোক্তা জানান, আমাদের প্রবাসীদের বেশিরভাগই সমাজের নিরীহ মানুষজন। তারা রাজনৈতিকভাবে অতটা সচেতন নন। তাদের মূলত বিএনপি-আওয়ামী লীগ নিয়ে মাথা ব্যথা নেই। সরকার পতনের ডাকে তাই তাদের বড় অংশেরই সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। 
তিনি বলেন, কিছু অংশ আছে যারা রাজনৈতিকভাবে সচেতন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ-বিএনপি এ গোষ্ঠীরই সমর্থক আছে। সুতরাং ব্যাপকভাবে প্রবাসীদের মাঝে এ আন্দোলন সফল করা যাবে বলে আপাতত মনে করছি না।
এ উদ্যোক্তা আরও বলেন, এদের মধ্যে আবার কেউ কেউ আছেন সুযোগসন্ধানী। দেশে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হলে অপেক্ষাকৃত কম দামে জমি বা এ জাতীয় সম্পদ হস্তগত করতে দেশে টাকা পাঠাবে। তাছাড়া কেউ কেউ এ আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
তার কথায়, এদিকে আমরা হুন্ডি করে রেমিট্যান্স পাঠাতে অনুরোধ করেছি। অনেকেই এতে নিরাপদ বোধ করছেন না। তাছাড়া হুন্ডিতে টাকা পাঠানোর অভিজ্ঞতাও তাদের কাছে সুখকর নয়। অনেক ক্ষেত্রেই টাকা মেরে দেওয়ার আশংকা থাকে।
আন্দোলনের আরেক উদ্যোক্তাও একই সুরে বলেন, পুরোপুরি সম্ভব না হলেও আমরা কিছুটা চাপ সৃষ্টি করতে পারবো। হয়তো সরকার পতন ঘটানো সম্ভব হবে না, তবু্ও আন্দোলনে প্রবাসীদের এঙ্গেজড (সম্পৃক্ততা) করার একটা সুযোগ আছে। 
তবে তিনি স্বীকার করেন, এ আন্দোলন সফল হলেও ভবিষ্যতে এর খারাপ ফল দেশকে ভোগ করতে হবে। যারা হুন্ডিতে টাকা পাঠানো শুরু করবে, বৈধভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহের রাস্তায় তাদের ফিরিয়ে আনা দুষ্কর হবে।

-পার্বত্য সময়