বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা নাগরিকদের ভরণপোষণে বিদেশি সহায়তা কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে। রোহিঙ্গা খাতের খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে। একদিকে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধবিগ্রহের কারণে তৈরি হয়েছে আর্থিক সংকট। যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও গভীর সংকটের সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় সবার মধ্যে রাজনৈতিক ও নির্বাচনি ব্যস্ততা বেড়েছে। ফলে রোহিঙ্গা খাতেও ঠিকমতো নজর দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। এতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তাজনিত ঘাটতিও দেখা দিয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা প্রাচীর ঘেঁষে কাঁটাতারের বেড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অর্থসংকটে সেগুলোর সময়মতো মেরামতও করা যাচ্ছে না। ফলে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও কিছুটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আবার ক্যাম্পগুলোতে খাদ্য সহায়তাও কমে গেছে। ফলে নিজেদের চাহিদা মেটাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে

ফাঁকি দিয়ে ক্যাম্পের বাইরে বেরিয়ে কাজ খুঁজছেন অনেক রোহিঙ্গা নাগরিক। সূত্র জানায়, চলতি বছর বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (উব্লিউএফপি) রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য সহায়তা ৩৩ শতাংশ কমিয়ে প্রতি মাসে মাথাপিছু ৮ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে ৪৫ শতাংশ রোহিঙ্গা পরিবার পর্যাপ্ত খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে খাদ্য সংকট থেকে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। এতে শিবিরগুলোতে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেননা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তা কমে গেছে। এতে অনেক রোহিঙ্গা পরিবার দুর্ভোগেও পড়তে পারে। যার কারণে তারা আরও বেশি অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খাদ্য সংকট মানুষকে সামাজিক সংকটের দিকে ঠেলে দেয়। রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে হয়তো সেটাই হতে যাচ্ছে। কেননা তারা সহায়তা পাওয়া সত্ত্বেও বাইরে কাজ করতে চায়।