মিয়ানমারের রাখাইনে আরাকান আর্মি (এএ) ও স্বাধীনতাকামী আরও একটি বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে দেশটির সামরিক বাহিনীর যুদ্ধ চলছে। এ ঘটনার জের ধরে ওপার থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আবারও রোহিঙ্গা ঢল নামতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় একটি সুত্র।
এর আগে গত ২০১৭ সালে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের নিরাপত্তা চৌকি ও ক্যাম্পে হামলার ঘটনার জেরে রাখাইন রাজ্যের জান্তাবাহিনীর নির্যাতনে বাস্তুচ্যুত হয়ে রোহিঙ্গারা পালিয়ে উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছিল। এর পর থেকে মিয়ানমার সরকার কোন রোহিঙ্গাকে সেদেশে আর ফেরত নেয়নি।
এদেশে রোহিঙ্গাদের বসবাসের কারনে স্থানীয়রা পড়েছেন বিপাকে। জানা গেছে, নতুন করে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মিয়ানমার রাখাইনে স্বাধীনতা কামী সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় রাখাইনে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা পালানোর চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও স্থানীয় রোহিঙ্গাদের বরাতে জানা গেছে রাখাইন রাজ্যে সংঘর্ষ দিন দিন বেড়েই চলছে। সেখানে থাকা রোহিঙ্গারা নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য যে যেভাবে পারছেন ছুটে বেড়াচ্ছেন। 
টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন ওপারে রাখাইনের মংডুর টাউনশীপ এলাকার বিভিন্ন সীমান্তে শত শত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু অবস্থান করছেন। এবং মিয়ানমার রাখাইন থেকে এপারের সীমান্তে ভেসে আসতেছে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ। 
এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানায়। জাদিমুড়ার রোহিঙ্গা নেতা নুরুল আমিন জানান, রাখাইনের মংডু টাউনশীপ শহরের চারপাশে আরাকান আর্মি ও দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলমান রয়েছে। এমন পরিস্থিতি রাখাইনের রোহিঙ্গারা দুপক্ষের গোলাগুলির কারনে তাদের বাড়ি-ঘর ছাড়ছেন। এবং সেখানে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। তাই নিরাপত্তার জন্য অনেকে সীমান্তের কাছে অবস্থান করছেন আবার অনেকেই মংডু টাউনশীপের দিকে চলে যাচ্ছে বলে জানতে পেরেছি।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী জানান, বিগত সময় রোহিঙ্গারা এদেশে অনুপ্রবেশ করার কারনে স্থানীয়রা বিপাকের মধ্যে পড়েছেন। তাই নতুন করে কোন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ হোক আমরা চাইনা। পালংখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান,মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা রোহিঙ্গারা উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয়ের পরে এ দুই উপজেলার মানুষের ওপর পড়েছে বিভিন্ন প্রভাব। ক্যাম্পে দিনের-পর দিন বেড়েই চলছে খুন-অপহরণ ও মাদক কারবার। এ কারনে ক্যাম্পের আশপাশের স্থানীয়রা আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন। তাই মিয়ানমার রাখাইনে চলা সংঘাতে নতুন করে কোন রোহিঙ্গা যেনো সীমান্ত পেরিয়ে আসতে না পারে সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে বলে তিনি জানান।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি'র)অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ জানান,অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফনদী ও সীমান্তে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি'র সদস্যরা। এবং সার্বক্ষণিক রাখাইনের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী জানান,নতুন করে কোন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারেন সেই লক্ষ্য বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা টহল জোরদার করেছেন। সে সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ সকলকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।

-পার্বত্য সময়