মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত মংডুতে চলছে দেশটির সামরিক বাহিনীর সাথে স্বশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মির তুমুল সংঘাত। বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও অত্যাচারের মুখে নাফ নদ পাড়ি দিয়ে রোহিঙ্গারা দলে দলে ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশে। এর সুযোগ নিচ্ছে টেকনাফ ও উখিয়ার স্থানীয় দালালচক্র। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখ ফাঁকি বাংলাদেশে ঢুকতে রোহিঙ্গাদের মাথাপিছু গুনতে হচ্ছে ২০ হাজার টাকা। কিছু ক্ষেত্রে এর থেকেও বেশি।  
কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, গত একমাসে অন্তত ১৩-১৫ হাজার রোহিঙ্গা টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে ঠাঁই নিয়েছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগ এসেছে গত এক সপ্তাহে। বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের জন্য মংডু সীমান্তে অপেক্ষায় আছে আরও ৬০-৭০ হাজার রোহিঙ্গা। নাফ নদ ও সীমান্তে বিজিবি ও কোস্টগার্ড বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যেও বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশের ঘটনায় উদ্বিগ্ন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
নতুন করে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গারা বলছেন, মিয়ানমারের রাখাইনে মংডু ও আশপাশের এলাকায় তুমুল যুদ্ধ চলছে। এতে অনেকে নিহত ও আহত হয়েছেন। আহতদের কেউ কেউ চিকিৎসা ও প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে চলে আসছেন। এ কারণে প্রতিজন রোহিঙ্গাকে দালালদের ২০ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে। কেউ কেউ আরও বেশি টাকা দিয়েছে।
রোহিঙ্গা যুবক রিদুয়ান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে অনেক কষ্টে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু এখানে নেই কোনও খাবার। আমার যে আত্মীয়ের বাসায় আছি, তারাও ঠিক মতো খেতে পারছেন না।’
রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কথা স্বীকার করে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ে অতিরিক্ত কমিশনার সামসু-দৌজা নয়ন বলেন, ‘ঠিক কতজন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে সে তথ্য নেই। সীমান্তে নিয়োজিত বিজিবি সঠিক তথ্য দিতে পারবে। তবে এপারে যেভাবে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে, এতে মনে করতে পারি ওপারে তুমুল যুদ্ধ চলছে।’

-পার্বত্য সময়