সেনাবাহিনী তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের মুখে পার্বত্য অঞ্চলের কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) এর সন্ত্রাসীরা উত্তর-পূর্ব ভারতের মিজোরামে আশ্রয় নিচ্ছে। কিন্তু ওই এলাকার স্থানীয় কিছু সংবাদমাধ্যমে পলাতক এই সন্ত্রাসীদের কুকি চিন সম্প্রদায়ের সাধারণ নাগরিক বলে চিহ্নিত করা হয়।
সম্প্রতি মিজোরামের একটি পত্রিকায় বাংলাদেশ থেকে নতুন শরণার্থীদের অনুপ্রবেশ ঘটছে বলে শিরোনাম হয়। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের মিজোরামে আশ্রয় নিয়েছে বাস্তুচ্যুত কুকি চিন সম্প্রদায়ের অন্তত ১২৭ জন। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, কেএনএফ'র কিছু সক্রিয় সদস্য এবং এই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সাহায্যকারীরা গ্রেফতার আতংকে ওই অঞ্চলে পাড়ি জমায়।
বান্দরবানের পাইক্ষ্যং পাড়ায় বম জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস। সেখানে সাধারণ বম সম্প্রদায়ের লোকজন জানায়, আমাদের পাড়ার কেউ অন্য কোথাও আশ্রয় নেয়নি। আমাদের সবাই এখানেই আছে। তবে তারা বর্তমান সময়ে কেএনএফ'র চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ বলে জানায়। এছাড়া বম অধ্যুষিত মুনলাই পাড়া ও বাকলাই পাড়ায় গিয়েও বাসিন্দাদের মুখে একই উত্তর পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, আমরা এখান থেকে  গেলে শহরের দিকে আশ্রয় নেবো। অন্যদেশে শরণার্থী হতে যাবো কেন? 
পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দা লালমিন বম বলেন, আমরা বমরা খুবই সাধারণ জীবন পছন্দ করি। বংশ পরম্পরায় আমরা পাহাড়ের প্রকৃতির মাঝে বেঁচে আছি। সরকারের সাথে অযথা ঝামেলা কেন করতে যাবো? কিছু চতুর প্রকৃতির লোক কয়েকজন যুবককে লোভ দেখিয়ে, ভুল বুঝিয়ে বিপথগামী করেছে।
তিনি আরও বলেন, মিজোরাম আমাদের খুব কাছে। পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিও আছে। এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে কেএনএফ। একদিকে সাধারণ বম হিসেবে আশ্রয় পাচ্ছে আবার অন্যদিকে আন্তর্জাতিক একটা চাপ সৃষ্টি করার জন্য অপপ্রচারের সুযোগ পাচ্ছে।
একই কথা বলেছেন সেনাবাহিনীর এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তিনি বলেন, কেএনএফ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে তারা মিজোরামে আশ্রয় নিচ্ছেন। 
তার মতে, কাউন্টার ইন্সার্জেন্সির কৌশল অনুসরণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাহাড়ে খাবার ক্রয়ে একটি বিধিনিষেধ জারি করেছে। ফলে এমন হতে পারে তাদের খাদ্য কিংবা অন্যান্য রসদ সরবরাহ বন্ধ থাকায় শক্তি কমে এসেছে। সুতরাং তারা পালিয়েও থাকতে পারছে না। অন্যদিকে তারা মিজোরামে আশ্রয় নিয়ে বহির্বিশ্বের কাছে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি পরামর্শ দিয়ে আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাবধান থাকতে হবে। অভিযান শেষে সেনাবাহিনী ফিরে আসলে এরা মিজোরাম থেকে ফিরে এসে পাহাড়ে আবার অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাতে পারে।
-পার্বত্য সময়