দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে দুদিন ধরে একটি জাহাজ থেকে তেল খালাস করা হচ্ছে এবং আগামীকাল সোমবার (৯ মার্চ) আরও দুটি জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এপ্রিল পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে। চীনা জাহাজে ছাড় থাকায় হরমুজ প্রণালি ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রভাব দেশের জ্বালানি আমদানিতে পড়বে না বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত পেট্রোলের প্রায় পুরোটা এবং অকটেনের সিংহভাগ দেশেই উৎপাদিত হয়। ইতোমধ্যে এপ্রিল পর্যন্ত দুই লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি চূড়ান্ত করেছে জ্বালানি বিভাগ। ফলে জ্বালানি তেল নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। জ্বালানি বিভাগ ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে দেশে তেলের সম্ভাব্য সংকট ও দাম বাড়ার আশঙ্কায় গত কয়েক দিন ধরে তেল বিক্রি বেড়ে যায়। বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দেখা যায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি। তবে গত শনিবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। দেশের অনেক স্থানে সকালের পর তেল বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। রাজধানীর অনেক পাম্পের সামনে এক থেকে দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন দেখা যায় এবং ক্রেতাদের দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল কিনতে হয়।
সাধারণত সরকারি ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবার ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকে। ফলে পাম্পগুলোতে এমনিতেই তেলের মজুত কম থাকে। এর সঙ্গে গুজবের কারণে অতিরিক্ত তেল কেনা যুক্ত হওয়ায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। সংকট সৃষ্টির পেছনে পেট্রোল পাম্প মালিকরা বিপিসির অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন। তাদের মতে, শুক্রবার বা শনিবার সীমিত আকারে ডিপো খোলা রাখলে ভোগান্তি অনেকটাই কমানো যেত।
অন্যদিকে বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনা এবং বেশি মুনাফার আশায় কেউ কেউ তেল মজুত করায় কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

