রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ‘গণহত্যা’ স্বীকৃতির ক্ষেত্রে শুধু আইনি মানদণ্ড ও প্রমাণ নয়, বরং রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থও বড় ভূমিকা রাখে বলে উঠে এসেছে নতুন এক বইয়ে।

‘পলিটিক্স অব ডিনায়াল অ্যান্ড নন-রিকগনিশন অব জেনোসাইড: দ্য কেস অব দ্য রোহিঙ্গা’ শীর্ষক বইটি রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেশন ল্যাব আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকাশিত হয়।

পালগ্রেভ ম্যাকমিলান প্রকাশিত ১৭ অধ্যায়ের বইটি যৌথভাবে সম্পাদনা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নাসির উদ্দিন, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলসের অধ্যাপক পলাশ কামরুজ্জামান এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের সহযোগী অধ্যাপক বায়েস আহমেদ।

বইটিতে রোহিঙ্গা সংকটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গা পরিচয় মুছে ফেলা, নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা, লৈঙ্গিক সহিংসতা, শিশু অধিকার, পানি নিরাপত্তা, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, গণমাধ্যমে রোহিঙ্গাদের উপস্থাপন এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়া-মিয়ানমার মামলা।

বইটির একটি অধ্যায়ে ৭০ জন রোহিঙ্গা বেঁচে যাওয়া ব্যক্তির বক্তব্য ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেন অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ।

আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবিরসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, মানবিক সহায়তা সংস্থা, নাগরিক সমাজ ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।

রোহিঙ্গা যুব প্রতিনিধি সাহাত জিয়া হিরু ও ক্যাম্পের কমিউনিটি মোবিলাইজার এনামুল হাসান বলেন, বইটি রোহিঙ্গাদের অধিকারবঞ্চনা ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।

তারা বলেন, শুধু মানবিক সহায়তা রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না। মৌলিক অধিকার, শিক্ষার সুযোগ, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির পাশাপাশি মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

সূত্র: নিউ এজ