কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে টানা ভারী বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। গত ৫ থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে কমপক্ষে ৪৩ হাজার রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৯ হাজার ৭০৭ জন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন। একই সময়ে হাজার হাজার আশ্রয়কেন্দ্র, শিক্ষাকেন্দ্র, পানি ও স্যানিটেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) রোহিঙ্গা কোঅরডিনেশন প্ল্যাটফর্মের (আরসিপি) সিনিয়র ইন্টার-এজেন্সি কোঅরডিনেশন অফিসার ফিলিপ্পো বুসকোনি এ তথ্য জানান।
আরসিপির তথ্যমতে, ভারী থেকে অতি ভারী মৌসুমি বর্ষণের কারণে কক্সবাজার ও বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা, জলাবদ্ধতা এবং ঝোড়ো বাতাসজনিত ক্ষতির ঝুঁকি বেড়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কক্সবাজার আবহাওয়া স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহ ধরে টানা ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। ৫ জুলাই সর্বোচ্চ ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এরপরও কয়েক দিন ধরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় মাটি সম্পূর্ণ স্যাচুরেটেড হয়ে পড়েছে, যা ক্যাম্প এলাকায় ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরসিপির ডেইলি ইনসিডেন্টস ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী, ৫ থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আবহাওয়াজনিত মোট ৪৮২টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৫৯টি ঝড়, ১৬৪টি ভূমিধস, ৪২টি বন্যা, পাঁচটি পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনা, আটটি অগ্নিকাণ্ড, একটি বজ্রপাত এবং দুটি অবকাঠামোগত ঝুঁকির ঘটনা। এসব ঘটনায় ১৫ জন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছেন।
সংস্থাটি জানিয়েছে, মানবিক সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জরুরি ত্রাণ, নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর এবং জীবনরক্ষাকারী সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে চলমান বৃষ্টিপাতের কারণে পরিস্থিতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।
আরসিপি জানিয়েছে, কক্সবাজারের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাত কিছুটা কমার সম্ভাবনা থাকলেও উখিয়া ও টেকনাফে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তাই মানবিক সংস্থাগুলোকে উচ্চমাত্রার প্রস্তুতি বজায় রাখার পাশাপাশি সরকারি আবহাওয়া সতর্কতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, আগাম সতর্কবার্তা প্রচার, আশ্রয়কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিদর্শন এবং প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের জরুরি স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


