৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী পর্তুগালের বিপক্ষে ড্র করে ইতিহাস গড়েছে ডিআর কঙ্গো। টেক্সাসের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ১-১ গোলে সমতায় থেকে মূল্যবান এক পয়েন্ট তুলে নিয়েছে আফ্রিকার দেশটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় পর্তুগাল। এরই ধারাবাহিকতায় ষষ্ঠ মিনিটে পেদ্রো নেতোর ক্রস থেকে হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জোয়াও নেভেস।

তবে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি ডিআর কঙ্গো। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া বলে শক্তিশালী হেডে জাল খুঁজে নেন উইসা। তার এই গোলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোলের দেখা পায় ডিআর কঙ্গো এবং ম্যাচে সমতা ফেরায়।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। ৫৫তম মিনিটে জোয়াও ক্যানসেলো বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। এরপর একাধিক সুযোগ তৈরি করেও আর গোলের দেখা পায়নি ইউরোপিয়ান দলটি।

ম্যাচে মোট ২৫ বার বলে টাচ করলেও ২১টি সহায়ক পাস দেন রোনালদো। যার মধ্যে ১৬টিই ছিল ব্যাক পাস। দুইবার ফুট শট নিলেও সেগুলো ছিল গোলবারের বাইরে। গোলমুখে কোনো শট নিতে পারেননি তিনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রোনালদোর এমন পারফরম্যান্সে হতাশ পর্তুগাল ভক্তরা।

তবে বাজে পারফরম্যান্স করলেও এদিন লিওনেল মেসির পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলার কীর্তি গড়েছেন রোনালদো। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—ছয়টি বিশ্বকাপেই মাঠে নামলেন পর্তুগিজ মহাতারকা।

এদিন নিষ্প্রভ ছিলেন পর্তুগিজ অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পুরো ম্যাচে তিনি গোলমুখে কোনো কার্যকর শট নিতে পারেননি। ম্যাচে মোট ২৫ বার বলে টাচ করলেও ২১টি সহায়ক পাস দেন রোনালদো। যার মধ্যে ১৬টিই ছিল ব্যাক পাস। দুইবার শট নিলেও দুটিই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে দলকে জয়ের পথে নিতে ব্যর্থ হন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।

তবে ব্যক্তিগত অর্জনের খাতায় নতুন একটি রেকর্ড যোগ করেছেন রোনালদো। আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার কীর্তি গড়েছেন তিনি। ২০০৬ সালে অভিষেকের পর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬—টানা ছয়টি বিশ্বকাপে মাঠে নামলেন পর্তুগিজ মহাতারকা।

ড্রয়ের ফলে বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট নিয়ে অভিযান শুরু করল দুই দলই। তবে শক্তিশালী পর্তুগালকে রুখে দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ডিআর কঙ্গো।