দুই মাস ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ার অভিযোগে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বান্দরবান সদর হাসপাতালের কর্মচারীরা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে সোমবারের মধ্যেই বেতনের ফাইলে স্বাক্ষর না হলে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থেকে হাসপাতালের সব ধরনের সেবা বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, সোমবার সকালে তারা নিজ নিজ কক্ষে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এ সময় শুভাষ দাশের নেতৃত্বে সদর হাসপাতালের একদল কর্মচারী কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
এ সময় কয়েকজন নারী কর্মচারী তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানালে তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে বাধা প্রদানসহ সংবাদকর্মীদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী শুভাষ দাশ বলেন, গত দুই মাস ধরে তাঁদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য সহকারী সিভিল সার্জনকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কয়েক দিন পর তাঁদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এ অবস্থায় বেতন ও বোনাস না পেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎসব উদযাপন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, সোমবারের মধ্যে সব কর্মচারীর বেতনের ফাইলে স্বাক্ষর না হলে মঙ্গলবার থেকে হাসপাতালের সব ধরনের সেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বান্দরবানের ডেপুটি সিভিল সার্জন চিকিৎসক দিলীপ কুমার দেবনাথ জানান, সিভিল সার্জনের যোগদান ও দাপ্তরিক জটিলতার কারণে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে বিলম্ব হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।


