আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবির ভয়াবহতা থেকে বেঁচে ফিরেও নিরাপদ নন রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ রফিক। মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে তথ্য দেওয়ার কারণে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে পরিবারসহ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী রফিক কুতুপালং ক্যাম্প-৬-এর বাসিন্দা। তার অভিযোগ, ‘নানা মাঝি’ পরিচয়ে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তাকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ক্যাম্পের বাইরে বের হলেই তাকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হবে। একই সঙ্গে পাচারচক্র সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা গণমাধ্যমকে তথ্য না দেওয়ার জন্য বারবার ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
রফিক জানান, গত ৪ এপ্রিল ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে দালালচক্র তাকে টেকনাফে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রায় তিন লাখ টাকা দিলেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি; বরং জোরপূর্বক মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলারে তুলে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল আন্দামান সাগরে ট্রলারটি ডুবে যায়। রফিকের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তাল সাগরে দুই দিন ভেসে থাকার পর একটি জাহাজ তাকে উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় উদ্ধার হওয়া নয়জনের মধ্যে ছয়জন পাচারকারী চক্রের সদস্য ছিল, যাদের ইতোমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রফিক বলেন, “মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি, কিন্তু এখন আবার মৃত্যুভয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই মৃত্যুর মিছিল থামবে না।”
কুতুপালং ক্যাম্প-৬-এর ব্লক মাঝি মোহাম্মদ হেলাল বলেন, রফিককে হত্যার হুমকি দেওয়ার বিষয়টি তারা জেনেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে। তবে ক্যাম্পের ইনচার্জ (উপ-সচিব) গাজী শরীফুল হাসান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে তারা শরণার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় ঠেলে দিচ্ছে। এ অবস্থায় পাচারচক্র দমনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এমন ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

