কক্সবাজার জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলমগীরের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত জেলায় ৮ জন এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালসহ একাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রোগীদের বড় অংশই শিশু।

মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণে জানা গেছে, অধিকাংশ রোগী নিউমোনিয়া, ব্রংকোপনিউমোনিয়া, সেপসিস, সেপটিক শক এবং কার্ডিওরেসপিরেটরি ফেইলিউরের মতো জটিলতায় ভুগছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে।

জেলার ঈদগাঁও, উখিয়া, টেকনাফ, রামু ও চকরিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

২৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক শতাধিক ছাড়িয়েছে, যার বড় অংশই শিশু।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, আক্রান্তদের অধিকাংশই টিকাবিহীন অথবা পূর্ণাঙ্গ টিকা গ্রহণ করেনি। ফলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং জটিলতার ঝুঁকি বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। পাশাপাশি জ্বর, ফুসকুড়ি, কাশি, চোখ লাল হওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।