রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে সড়ক অবরোধের কারণে আটকা পড়েছেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ১ হাজার ২৪৪ জন পর্যটক। এমন পরিস্থিতিতে আটকে পড়া পর্যটকদের বিশেষ নিরাপত্তায় খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছে বাঘাইহাট সেনা জোন। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাজেক ও বাঘাইহাটের দুটি পয়েন্টে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ রয়েছে।
সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির যৌথ ঘোষণায় শনিবার (১০ অক্টোবর) থেকে সাজেকের একমাত্র প্রবেশ ও বের হওয়ার সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। এতে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে ফিরে আসা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর সাজেকের উজোবাজার এলাকায় আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে সংগঠন দুটি ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়। নির্ধারিত সময়সীমা শনিবার দুপুর ১২টায় শেষ হলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়।
শনিবার যৌথ বিবৃতিতে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা অবরোধের ঘোষণা দেন। বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু গ্রুপ) সদস্যদের সাজেকে অবস্থানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সাজেক থেকে ওই গ্রুপের সদস্যদের সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠন দুটি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রের দাবি, গত এক মাস ধরে পাহাড়ে দুটি সশস্ত্র সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাজেক ইউনিয়নের চাইল্যাতলী এলাকায় দুই পক্ষের গোলাগুলির ঘটনায় সঞ্জিতা ত্রিপুরা নামে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়।
এদিকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধে সাজেকের পর্যটন কার্যক্রমেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় পরিবহন, হোটেল-মোটেল ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে বাঘাইহাট সেনা জোনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বিশেষ নিরাপত্তা দিয়ে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
তবে পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম কখন এবং কীভাবে শুরু হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে পর্যটকদের ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


