পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলা দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট থেকে উত্তরণের আশায় নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে স্থানীয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তৈমাতাই ও পিলাক খাল পুনঃখননের উদ্যোগকে ঘিরে কৃষকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে আশাবাদের নতুন আলো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ তৈমাতাই খাল এবং ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পিলাক খাল। নাব্যতা সংকটে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে সৃষ্টি হচ্ছিল জলাবদ্ধতা, একই সঙ্গে কমে যাচ্ছিল কৃষি উৎপাদন—যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল পরিবেশের ভারসাম্যের ওপরও।
সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই দুই খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাল দুটি পুনরুজ্জীবিত হলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা সেচ সুবিধা পাবেন। ফলে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, খাল পুনঃখননের ফলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে। বিশেষ করে কৃষকরা নতুন করে চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠবেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় এই খনন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গুইমারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ জানান, প্রায় ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিশকাতুল তামান্না বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং নতুন কৃষিজমি চাষের আওতায় আসবে, যা সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

জানা গেছে, আগামী ২০ মে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। ইতোমধ্যে উদ্বোধনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

খাল পুনঃখননের পাশাপাশি এর দুই পাড়ে ফলজ, বনজ ও ওষধি গাছ লাগিয়ে সবুজ বনায়ন গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।