দিনে গরম, রাতে হিমেল ঠাণ্ডা। আবহাওয়ার এমন দ্রুত পরিবর্তনে খাগড়াছড়িতে বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা। সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া নিয়ে প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে। ২৫ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ এতটাই বেড়েছে যে, জায়গা না পেয়ে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ জন শিশু ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ভর্তি হচ্ছে। শুক্রবার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৫১ জনে। অথচ ওয়ার্ডটিতে শয্যা রয়েছে মাত্র ২৫টি। ফলে অতিরিক্ত রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসক ও নার্সদেরও বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে।
সিনিয়র স্টাফ নার্স অনিতা চাকমা বলেন, ২৫টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বেশি থাকছে। শুক্রবার ভর্তি ছিল ৫১ শিশু। ফলে বাধ্য হয়ে মেঝেতে রেখেও চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। বেডের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি রোগী হওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালের পাশে দীর্ঘ আট বছর ধরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নতুন ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। ভবনটির কাজ শেষ করে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে রোগীদের আরও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ঠাণ্ডাজনিত রোগে প্রায় ৪০০ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয় ৫৬ শিশু। একই মাসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গুইমারা উপজেলা থেকে শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে আসা উমেসিং মারমা বলেন, কয়েক দিন ধরে তার শিশুর সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট ছিল। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন তিনি।
আরেক শিশুর মা রুবি আক্তার বলেন, রাতে হঠাৎ শিশুর জ্বর ও কাশি বেড়ে যায়। পরে খিঁচুনি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এরপর শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় শিশুটিকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে এখন তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
শিশুর অভিভাবক মো. ফরিদ মিয়া বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুরা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে মনে হচ্ছে। হাসপাতালে এসে একই ধরনের সমস্যা নিয়ে অনেক শিশুকে ভর্তি হতে দেখেছেন তিনি। চিকিৎসকের পরামর্শে শিশুকে উষ্ণ জায়গায় রাখছেন।
খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে শিশুদের ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রবণতা বাড়ছে। এ সময়ে নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বেশি শিশু হাসপাতালে আসছে।
তিনি বলেন, শিশুদের ঠাণ্ডা ও ধুলাবালি থেকে দূরে রাখতে হবে। অসুস্থ হলে ঘরে বসে না থেকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, উচ্চ জ্বর কিংবা নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, আবহাওয়া পরিবর্তনের এ সময়ে শিশুদের শরীর উষ্ণ ও শুষ্ক রাখা, ঠাণ্ডা বাতাস ও ধুলাবালি এড়িয়ে চলা এবং পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।


