বান্দরবানের লামায় মিরিঞ্জা ভ্যালির রয়েল হিল রিসোর্টে হামলার ঘটনায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। রিসোর্টের মালিকের অভিযোগ, একদল লোক রিসোর্টে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। অন্য পক্ষের দাবি, রিসোর্টের মালিকের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে মিরিঞ্জা ভ্যালির রয়েল হিল রিসোর্টে হামলার ঘটনা ঘটে। রিসোর্টের মালিক রাসেল চৌধুরীর অভিযোগ, মো. সুলতান, মো. জাফরসহ একদল লোক রিসোর্টে গিয়ে হামলা চালান। এ সময় রিসোর্টের নারী কর্মীসহ কয়েকজন আহত হন। হামলাকারীরা রিসোর্টের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর এবং নগদ টাকা নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রাসেল চৌধুরী বলেন, ঘটনার পর মামলা করতে লামা থানায় গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর লামার সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন তিনি। মামলায় মো. সুলতান (৫৫), মো. জাফর (৩৮), মো. আইয়ুব (৩৫), আরিফ (৩৬) ও শাহাদাত (৪৫)-এর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ২৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, রিসোর্টের জায়গা নিজেদের দাবি করে দখলের উদ্দেশ্যে লাঠিসোঁটাসহ ২৫ থেকে ২৬ জনের একটি দল সেখানে হামলা চালায়।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাফর আলম ও মো. সুলতান। তাঁদের দাবি, রিসোর্টটি তারাই করেছিলেন এবং এখনো পরিচালনা করছেন। তাদের ওপর রাসেল চৌধুরীর নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জন হামলা চালিয়েছেন। বিষয়টি তাঁরা মীমাংসার চেষ্টা করলেও রাসেল চৌধুরী রাজি হননি। পরে তাঁরা থানায় মামলা করেন।

বৃহস্পতিবার রাতে করা ওই মামলায় রয়েল হিল রিসোর্টের মালিক রাসেল চৌধুরী, শিশির স্বপন চাকমা, তাঁর স্ত্রী সঞ্চিতা চাকমা, মো. শাহাবুদ্দিনসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠন লামা পর্যটন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাবেকুল মাওলা বলেন, জাফর ও সুলতানদের সঙ্গে জায়গা নিয়ে বিরোধ ও মামলা থাকলেও কয়েক বছর ধরে রাসেল চৌধুরী ও সঞ্চিতা চাকমা যৌথভাবে রয়েল হিল রিসোর্ট পরিচালনা করে আসছিলেন। তাঁর অভিযোগ, দিনের বেলায় লোকজন নিয়ে রিসোর্টে হামলা করে দখলের চেষ্টা করা হয়েছে।

সাবেকুল মাওলার অভিযোগ, হামলার পর রিসোর্টের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ তা নেয়নি। পরে আদালতে মামলা করা হলেও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। এর মধ্যে অভিযুক্ত পক্ষ থানায় গিয়ে পাল্টা মামলা করেছে। হামলার শিকার ব্যক্তিরা বর্তমানে আতঙ্কে রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায়সার হামিদ বলেন, রিসোর্টে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারিও হয়েছে এবং এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন।

রিসোর্টের পক্ষের মামলা থানায় প্রথমে না নেওয়ার বিষয়ে ওসি বলেন, দুই পক্ষকে বসে বিষয়টি মীমাংসা করতে বলা হয়েছিল। পরে রিসোর্টের মালিক আদালতে মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্তাধীন। অপর পক্ষও থানায় মামলা করেছে।

ওসি কায়সার হামিদ বলেন, এখন বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে।