বাড়িতে তখন কেউ ছিল না। বাবা দূরের শহরে গার্মেন্টসে কাজ করেন, আর দাদি গিয়েছিলেন বাজারে। এই সুযোগে ঘরে ঢুকে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শামছুল আলম (৩৫) আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি করেছে শিশুটির পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়ায়। ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় বিরাশিটিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সময় শিশুটি বাড়িতে একা ছিল। তার দাদি মোল্লাবাজারে বিকাশের মাধ্যমে টাকা তুলতে গেলে প্রতিবেশী শামছুল আলম দরজায় ধাক্কা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে শিশুটির মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

শিশুটির পারিবারিক জীবনও বেশ কষ্টের। পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলায় তার মা তাকে রেখে চলে যান। এরপর দাদির কাছেই বড় হচ্ছে সে। বাবা জীবিকার প্রয়োজনে চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। ফলে দাদিই শিশুটির দেখাশোনার প্রধান দায়িত্ব পালন করেন।

পরিবারের দাবি, ঘটনার পর শিশুটি বিষয়টি জানালে তারা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে অভিযুক্ত শামছুল আলমের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। বাড়িটি তালাবদ্ধ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার পর থেকেই তিনি এলাকায় নেই। তাঁর তিন সন্তান রয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শামছুল আলমের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় সংবাদ লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগটি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে শিশুটির পরিবার।

এদিকে, শিশুটির বয়স কম হওয়ায় তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তার নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।