খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে শিক্ষকের নির্দেশে একই শ্রেণির ৭২ শিক্ষার্থীর হাতে দুই সহপাঠীকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার অন্যতম বিদ্যাপীঠ রানী নিহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন তাদের অভিভাবকেরা। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তারা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, গত ১ অক্টোবর বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক নাঈমুল হকের নির্দেশে অষ্টম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী মেহেরাজ জিসান ও মিফতাহুল জান্নাতকে তাদের ৭২ সহপাঠী দিয়ে চড় মারা হয়।
জানা গেছে, এর আগের দিন ৩০ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের বাইরে শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে মেহেরাজ জিসানের বিরুদ্ধে। একইভাবে মিফতাহুল জান্নাতের বিরুদ্ধে অন্য শ্রেণির এক ছেলে শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলার অভিযোগ তোলা হয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই পরদিন শ্রেণিকক্ষে তাদের এভাবে শাস্তি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের দাবি, তাদের সন্তানদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরে অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা এবং বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায় বলেও দাবি করেন তারা।
এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক রোববার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক নাঈমুল হক নিজের ভুল স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এটা আমার ভুল হয়েছে, অন্যায় হয়েছে। এ ঘটনার জন্য আমি অনুতপ্ত।’
ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতাউল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা কাম্য নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সিকদার বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, শৃঙ্খলা রক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে একজন শিক্ষকের নির্দেশে একাধিক শিক্ষার্থীকে দিয়ে সহপাঠীকে শাস্তি দেওয়ার ঘটনা শিশুদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।


