ভোটার তালিকায় জালিয়াতির মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ২২ রোহিঙ্গার নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটার হয়ে থাকায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব রোহিঙ্গার পরিচয় যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ইসি ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ (এনআইডি) সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারীতে ১৯ জন ও দিনাজপুরে ৩ জন রোহিঙ্গা ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোটার হন। তারা বাবা-মা ও স্বামী-স্ত্রীর ভুয়া নাম ব্যবহার করে এবং শনাক্তকারী কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে তথ্য গোপন করেন। ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কমিশন। সম্প্রতি রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন বলেন, “যারা রোহিঙ্গা পরিচয় গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটার হয়েছেন, তাদের নাম বাতিল করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যদি এমন কেউ শনাক্ত হয়, তাকেও বাদ দেওয়া হবে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক নন- এ বিষয়ে কমিশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশই তদন্ত শুনানিতে উপস্থিত হননি। এমনকি তাদের দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড সদস্যদের মতামত ও স্বাক্ষরের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করা হয়।
অভিযুক্ত রোহিঙ্গাদের মধ্যে আছেন- মোহাম্মদ জুবায়ের, পারভীন আক্তার, মোহাম্মদ রেজুয়ান এবং নীলফামারীর আবদুর রহমান, নূর মোহাম্মদ, আবদুর রহিম, মোহাম্মদ শাহ্, মো. এমরান, বেবি আকতার, মো. শরিফ, শারমিন আকতার, মো. এরশাদ, সহিদুল আমিন, মো. মোজাফফর হোসেন, মো. রফিক, নবী হোসাইন, রাশেদা বেগম, ইহসান উল্লাহ, মোহাম্মদ শাকের, মো. কামাল, সুফাইরা আক্তার ও মোহাম্মদ সোহেল।
এনআইডি মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুন কবীর জানান, “রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশের যে কেউ ভুয়া নাম, ঠিকানা ও পরিচয় দিয়ে ভোটার হলে এবং তা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ দেশজুড়ে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
-পার্বত্য সময়


