দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) নতুন করে ২ হাজার ২৫৮টি পদ সৃষ্টি করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, এ পদগুলো সৃষ্টির ফলে বিজিবির মোট জনবল ৫৭ হাজার ৪৭৭ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৫৯ হাজার ৭৩৫ জনে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বিজিবির দায়িত্ব ও কার্যক্রমের পরিধি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সীমান্তে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো, মাদক ও অস্ত্র পাচার প্রতিরোধে বাহিনীটির সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই পদগুলো তৈরি করা হয়েছে। নতুন সৃষ্ট পদগুলো পরিচালক থেকে শুরু করে সৈনিক পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা বিজিবির প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।

প্রক্রিয়াটি অনুমোদন করেছে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিবদের কমিটি এবং পরবর্তীতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সরকারি নথি অনুযায়ী, সম্প্রসারিত কাঠামোর আওতায় তিনজন পরিচালক, নয়জন অতিরিক্ত পরিচালক ও নয়জন উপপরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদগুলো সশস্ত্র বাহিনী থেকে ডেপুটেশনের মাধ্যমে পূরণ করা হবে, যেখানে পরিচালকরা লেফটেন্যান্ট কর্নেল, অতিরিক্ত পরিচালকরা মেজর এবং উপপরিচালকরা ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার সমতুল্য হবেন।

এ ছাড়া পরিদর্শক পদমর্যাদার তিনজন পুলিশ কর্মকর্তাকেও ডেপুটেশনে নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কাঠামোয় আরও যুক্ত হয়েছে সুবেদার মেজর, নায়েব সুবেদার, হাবিলদার, নায়েক, ল্যান্স নায়েক এবং সৈনিকসহ বিভিন্ন স্তরের পদ। পাশাপাশি বিজিবির প্রশাসনিক কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ইমাম, হিসাবরক্ষক, অফিস সহকারী, কম্পিউটার টাইপিস্ট, ধাত্রী ও অফিস সহযোগীসহ কয়েকটি বেসামরিক পদও সৃষ্টি করা হয়েছে।

বিজিবির গুইমারা হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে আলাদা করে নতুন কিছু পদ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে হাবিলদার, নায়েক, ল্যান্স নায়েক এবং সৈনিক পদে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত সুরক্ষা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়তা ও মানবিক কার্যক্রমে বিজিবির ভূমিকা দিন দিন বাড়ছে। এই নতুন পদ সৃষ্টির ফলে বাহিনীর কর্মক্ষমতা, তৎপরতা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।