কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ২৮ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আটক করেছে র‌্যাব-১৫। তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় এক যুবককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (১২ অক্টোবর) রাতে র‌্যাব-১৫, সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল হ্নীলা পশ্চিম শিকদারপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। এ সময় রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দাতা হিসেবে আটক করা হয় স্থানীয় রশিদ আহমেদের ছেলে বোরহান উদ্দিনকে (১৮)।

র‌্যাব জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে বাইরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছে এবং কেউ কেউ স্থানীয়দের সহায়তায় জমি কিনে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনের চেষ্টা করছে। এসব রোহিঙ্গার অনেকেই খুন, ছিনতাই, মাদক পাচার, অপহরণ ও ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যার ফলে কক্সবাজারসহ আশপাশের জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে।

ইতিপূর্বেও র‌্যাব-১৫ ক্যাম্পের বাইরে অবস্থানরত একাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে বসবাস রোধে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর সম্মিলিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব-১৫ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক আ. ম. ফারুক বলেন, “রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে ক্যাম্পের বাইরে অবস্থান প্রতিরোধে র‌্যাবের অভিযান নিয়মিতভাবে চলছে। কেউ আইনভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

টেকনাফ ও উখিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বাইরে আসা এখন একটি বড় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্যাম্পের বাইরে বসবাসকারীদের মধ্যে সংগঠিত অপরাধ, মাদক ব্যবসা ও মানবপাচার চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সরকার ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাগুলোর নির্দেশনা অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বাইরে বসবাস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কিন্তু স্থানীয় সহযোগিতায় অনেকেই নিয়ম ভেঙে বাইরে অবস্থান করছে। প্রশাসন বলছে, এই ধারা রোধে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।