কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) নিয়মিত অভিযান চললেও সন্ত্রাসীরা একে-৪৭সহ বিভিন্ন ভয়ংকর অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র বাণিজ্যের মাধ্যমে তারা ক্যাম্পে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখছে।
সাধারণ রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, ক্যাম্পের কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নিয়মিত চাঁদা আদায়, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায় জড়িত। কেউ তাদের কাজে বাধা দিলে কিংবা বাধা হিসেবে বিবেচিত হলেই টার্গেট করে হত্যা করা হচ্ছে। এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে শীর্ষ রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহসহ বহু নেতা ও সাধারণ রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বর্তমানে এপিবিএনের তিনটি ব্যাটালিয়ন দায়িত্ব পালন করছে। ২০১৭ সাল থেকে এসব ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পে সন্ত্রাস দমন, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
এপিবিএন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে পরিচালিত নিয়মিত অভিযানে মোট ৩৪৬ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে অপহৃত ৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়। অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, সাতটি ওয়ান শুটার গান, ১৫টি দেশীয় অস্ত্র, একটি ম্যাগাজিন, ২১ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি কার্তুজ ও চারটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্যের মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে ১৯ হাজার ৭১৩ পিস ইয়াবা, ১৩৮ গ্রাম ভাঙা ইয়াবার গুঁড়া, ১ দশমিক ৯০৪ কেজি গাঁজা, ৫৫ দশমিক ৫০ লিটার মদ এবং ৫২৬ ক্যান বিয়ার। এছাড়া অবৈধভাবে মজুত করা রেশন, জুয়া খেলার সরঞ্জাম, নগদ অর্থ ও চোরাই মালামালও উদ্ধার করা হয়।
১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কাউছার সিকদার বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন ব্লক ও পাহাড়ি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন ও মানবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন হয়েছে। নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, মাদক পাচার ও অবৈধ অস্ত্র কার্যকরভাবে দমন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এপিবিএনের অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম আরও জোরদার রাখা হবে।


