বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে ভাসানচর আশ্রয়কেন্দ্র থেকে পালিয়ে আসা ৩৭ জন রোহিঙ্গাকে সন্দ্বীপে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) গভীর রাতে সন্দ্বীপ উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

আটক হওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, আট জন নারী এবং ১৭ জন শিশু রয়েছে।

আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর, সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  জানান, উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা ভাসানচর আশ্রয়কেন্দ্র থেকে পালিয়ে এসেছে।

আটক রোহিঙ্গাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৯ মার্চ এক দালালের মাধ্যমে জনপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা চুক্তিতে তারা একটি ট্রলারে করে চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভাসানচর ত্যাগ করে। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী গন্তব্যে পৌঁছানোর বদলে তাদের তিন দিন ভাসানচরের আশপাশের জঙ্গলে এবং দুই দিন সাগরে ট্রলারে ঘুরিয়ে রাখা হয়। পরে শুক্রবার রাত প্রায় ১০টার দিকে তাদের সন্দ্বীপ উপকূলে নামিয়ে দিয়ে ট্রলারটি চলে যায়।

রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, যাওয়ার সময় দালালচক্র তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

পরে হেঁটে তারা সন্তোষপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে এবং সাময়িকভাবে সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

ওসি নাজমুন নুর জানান, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আটক রোহিঙ্গাদের ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের আবার ভাসানচর আশ্রয়কেন্দ্রে ফেরত পাঠানো হবে।