মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জান্তা বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সশস্ত্র দলগুলোর মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বাংলাদেশ সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এই কঠোর নজরদারির ধারাবাহিকতায় আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে ৫২ জনকে আটক করেছে বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আটককৃতরা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত সীমান্তের ওপারে তীব্র গোলাগুলি শুরু হলে প্রাণভয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে। তবে সীমান্তে নিয়োজিত বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থানের কারণে অনুপ্রবেশকারীরা পার হওয়ার পরপরই যৌথ বাহিনীর বেষ্টনীতে আটকা পড়ে।

অস্ত্রহীন অবস্থায় আটক বিজিবি-র কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, অনুপ্রবেশের খবর পাওয়ামাত্রই বিজিবি, র‌্যাব, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও পুলিশ সমন্বিত অভিযান চালিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। বর্তমানে তাদের পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজিবি তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সূত্র বলছে,  প্রাথমিক তল্লাশিতে আটককৃতদের কাছে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি।

সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার এ বিষয়ে বিজিবি জানিয়েছে, ওপারের অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী যেন বাংলাদেশে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সীমান্ত জুড়ে টহল বাড়ানো হয়েছে। কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বরদাশত করা হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।

গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশি শিশুর অবস্থা 

এদিকে সকালে সীমান্তের ওপার থেকে আসা একটি গুলি হোয়াইক্যংয়ের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় জসিম উদ্দিনের ৭ বছর বয়সী শিশুকন্যা আফনানের গায়ে লাগে। প্রথমে শিশুটির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, শিশুটি বর্তমানে জীবিত এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও বিজিবি-র কঠোর অবস্থানের কারণে জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। অনুপ্রবেশকারীদের পরিচয় এবং উদ্দেশ্য নিশ্চিত হতে বিজিবি-র পক্ষ থেকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।