কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের বেশিরভাগই নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের নিশ্চয়তা পেলে নিজ দেশে মিয়ানমারে ফিরতে চান। রোববার (৩১ আগস্ট) ঢাকায় প্রকাশিত অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
“আড়ার হেফাজত (আমাদের সুরক্ষা): সুরক্ষাজনিত ঝুঁকির মুখে রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত করা” শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী নারীদের ৫০ থেকে ৮২ শতাংশই রাখাইনে ফিরে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আবেগ, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক বন্ধনকে এর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবে তরুণ অংশগ্রহণকারীরা যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া বা সৌদি আরবের মতো তৃতীয় দেশে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ পারিবারিক সম্পর্ক ও মৌলিক সেবার কারণে কুতুপালং ক্যাম্পেই থাকতে চান। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, ভাসানচরকে কোনো নারীই বিকল্প হিসেবে দেখেননি; এর কারণ হিসেবে তারা দ্বীপটির বিচ্ছিন্নতা ও সুযোগ-সুবিধার অভাবের কথা বলেছেন।
গবেষণায় যৌন হয়রানিকে রোহিঙ্গা নারীদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্ক বিয়ে ও বহুবিবাহের মতো প্রথাগত সমস্যাও বিদ্যমান। মাত্র ৭ শতাংশ নারী জানিয়েছেন যে তারা স্বাধীনভাবে আইনি সহায়তা পেতে সক্ষম হন। প্রায় অর্ধেক নারী (৪৮%) পুরুষ ও কিশোরদের জন্য পরামর্শমূলক কর্মসূচি চালুর সুপারিশ করেছেন, যাতে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা হ্রাস পায়।
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই গবেষণার ফলাফল কেবল পরিসংখ্যান নয়, বরং রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। তারা নারী-সংবেদনশীল সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, ক্যাম্পে সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব হ্রাস, আলোকসজ্জা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আরও নারী নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, এই নারীরা প্রায় আট বছর ধরে এখানে বসবাস করছেন। সহিংসতা কমেনি, বরং তার ধরন পাল্টেছে। আমাদের ভূমিকা হলো তাদের কণ্ঠকে জোরালো করা, যাতে তারা নিজেরাই নিজের কথা বলতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, মানবিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি হলেও রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই সমাধান হলো মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসন। অন্যথায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম অনিশ্চয়তায় আটকে পড়বে, যেখানে নাগরিকত্ব, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত থাকবে।
অ্যাকশনএইড ইউকে ও পিপলস পোস্টকোড লটারি’র সহায়তায় এবং স্থানীয় সংগঠন অগ্রযাত্রার সহযোগিতায় এই গবেষণা পরিচালিত হয়। এতে ৯৬ জন অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ৬৬ জন রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরী এবং ৩০ জন উখিয়ার স্থানীয় নারী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
-পার্বত্য সময়


