মিয়ানমারে সাম্প্রতিক কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিতে কক্সবাজারের আশ্রয়শিবির থেকে ৮২ জন রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গেছেন। জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ থেকে ১৮ মে সময়কালে এ প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই ৩০ থেকে ৪০ জন রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।
ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে কৃষিকাজ ও শিকারের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করার পরিকল্পনা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ইউএনএইচসিআর জানায়, রাখাইন রাজ্যের সংঘাত পরিস্থিতির কিছুটা উন্নয়ন এবং স্থানীয় নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন এ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মিয়ানমারের রাখাইন ও বুথিডং অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য দেশটির সামরিক জান্তা ও বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। বর্তমানে এই অঞ্চলের বড় একটি অংশ আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে ধারণা করা হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার আগ্রহ বেড়েছে।
একই সময়, বাংলাদেশ সরকার ১০ হাজার ২৯১ জন রোহিঙ্গাকে সীমান্ত পার করে জোরপূর্বক ফেরত পাঠিয়েছে বলে ইউএনএইচসিআর দাবি করেছে। চলতি সপ্তাহেও ১০ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি পাননি। যদিও নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, তবে সেই সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কক্সবাজার শিবিরগুলোর কড়াকড়ি নিরাপত্তা ব্যবস্থা পাশ কাটিয়ে রোহিঙ্গারা দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা, উপকূলীয় এলাকা ও সীমান্তে রোহিঙ্গাদের জীবিত বা মৃত উদ্ধারের ঘটনা থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, রোহিঙ্গাদের প্রতি আরাকান আর্মির শত্রুভাবাপন্ন মনোভাবের কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সচল করতে বাংলাদেশ সরকার এখন মিয়ানমার, আরাকান আর্মি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া গণহত্যা, ধর্ষণ ও নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে যে মানবিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে, এই প্রত্যাবাসন তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
-পার্বত্য সময়


