কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলের অদূরে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় একটি ট্রলার থেকে সাত বাংলাদেশি জেলেকে তুলে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ সংলগ্ন সীতা এলাকায় এই ঘটনা ঘটলেও বুধবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালিয়া ঘাটের ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি সাজেদ আহমেদ জানান, বাংলাদেশের জলসীমার ভেতরেই অস্ত্রের মুখে ট্রলারটি থামিয়ে জেলেদের ধরে নিয়ে যায় এএ-এর উপকূলীয় নিরাপত্তা ইউনিট। অপহৃত জেলেদের ট্রলারটি কায়ুকখালিয়া পাড়ার বাসিন্দা শাওন আহমদের বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “নিয়ে যাওয়া সাত জেলের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। তবে তারা সবাই টেকনাফ এলাকার বাসিন্দা।”
এদিকে মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে আটক জেলেদের ছবিসহ উল্লেখ করা হয়-জলসীমা অতিক্রমের অভিযোগে আরাকান আর্মি ট্রলারটি জব্দ করে এবং প্রায় ২৬০ কেজি মাছ ও তিনটি মাছ ধরার জাল উদ্ধার করে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকিব হাসান চৌধুরী বলেন, স্থানীয় সূত্রে বিষয়টি জানতে পেরেছি। ইতোমধ্যে বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে জানানো হয়েছে। আমরা বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছি এবং বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।”
সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মির তৎপরতা বৃদ্ধি এবং মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাবে বাংলাদেশি জেলেদের নিরাপত্তা শঙ্কা আবারও সামনে এলো বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


