বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২০ জনের সাজা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও বহাল রাখা হয়েছে।
রোববার (১৬ মার্চ) বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২০ আসামি:
১. মেহেদী হাসান রাসেল (সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগ, সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), ২. মেহেদী হাসান রবিন (সাংগঠনিক সম্পাদক, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), ৩. অনিক সরকার অপু (তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), ৪. মনিরুজ্জামান মনির (সাহিত্য সম্পাদক, ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), ৫. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (ক্রীড়া সম্পাদক, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), ৬. ইফতি মোশাররফ সকাল (উপসমাজসেবা সম্পাদক, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), ৭. মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), ৮. মোজাহিদুর রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), ৯. হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), ১০. এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), ১১. শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), ১২. মাজেদুর রহমান মাজেদ (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), ১৩. খন্দকার তাবাক্কারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), ১৪. মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), ১৫. এস এম নাজমুস সাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), ১৬. মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), ১৭. মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোর্সেস, ১৬তম ব্যাচ), ১৮. শামছুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), ১৯. মুজতবা রাফিদ (উপ-দপ্তর সম্পাদক, কেমিকৌশল), ২০. এস এম মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল)
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ৫ আসামি:
১. মুহতাসিম ফুয়াদ (সহসভাপতি, ছাত্রলীগ, সিই বিভাগ, ১৪তম ব্যাচ), ২. ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক, মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ), ৩. অমিত সাহা (আইনবিষয়ক উপসম্পাদক, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), ৪. আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), ৫. মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭ ব্যাচ)
পলাতক আসামি:
আসামিদের মধ্যে মুনতাসির আল জেমি হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে পালিয়ে যান। এছাড়া তিনজন মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।
হাইকোর্টের এ রায়ে আবরারের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করলেও, আইনজীবীরা বলছেন, উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে।
মামলার পটভূমি:
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পিটিয়ে হত্যা করে। আবরার তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পর তার বাবা চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়।
২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ বিচারিক আদালতে ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

-পার্বত্য সময়