দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সাবেক ও বর্তমান আইনপ্রণেতাদের প্ল্যাটফর্ম ‘আসিয়ান পার্লামেন্টারিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস’ (এপিএইচআর) রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ, চীন ও আসিয়ান দেশগুলোর অংশগ্রহণে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে।
বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতে এপিএইচআরের প্রতিনিধি দল এ প্রস্তাব তুলে ধরেছে।
প্রতিনিধি দলে মালয়েশিয়ার সাবেক এমপি ও এপিএইচআরের সহ-সভাপতি চার্লস সান্তিয়াগো বলেন, “দুটি কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা উচিত। একটি হল রোহিঙ্গাদের জন্য তহবিল সংগ্রহে আসিয়ান নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ নেওয়া। অন্যটি হল রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে উচ্চ পর্যায়ের আসিয়ান-বাংলাদেশ-চীন রাজনৈতিক সম্মেলন আয়োজন করা।”
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আসিয়ানের সহযোগিতা চেয়ে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশকে সংস্থাটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আমরা আসিয়ানের একটি সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হতে চাই। যেহেতু আমরা আসিয়ানের সদস্য নই, তাই সরাসরি বিষয়টি সেখানে তুলতে পারি না। এটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সমস্যাটির সমাধান প্রয়োজন।”
প্রধান উপদেষ্টা এপিএইচআরকে আসিয়ান সংসদীয় গ্রুপ গঠনের এবং বাংলাদেশকে সেখানে আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “এটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ বিষয়টি (রোহিঙ্গা সংকট) এখন আমাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসিয়ানের এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে, যা এখনও নেই। আমাদের অভিজ্ঞতা এবং সমস্যার তথ্য আসিয়ানকে এবং বিশ্বের বাকি অংশকে জানানো প্রয়োজন।”
চার্লস সান্তিয়াগো বলেন, আসিয়ান সংসদ সদস্যরা ২০১৮ সালে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। তখন থেকেই এ বিষয়টির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে।
“আমরা সবসময় চেষ্টা করি রোহিঙ্গা ইস্যুকে আসিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে। তবে স্বীকার করতে হবে, গত দুই-তিন বছরে আমরা চুপ ছিলাম, কারণ মিয়ানমারে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে মনোনিবেশ করেছিলাম।”
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে মালয়েশিয়ার সংসদ সদস্য ওং চেন, ফিলিপিন্সের সাবেক কংগ্রেস সদস্য রাউল ম্যানুয়েল এবং এপিএইচআরের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর চোনলাথন সুপাইবুনলার্ড উপস্থিত ছিলেন।
-পার্বত্য সময়


