বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে আবারও স্থলমাইন বিস্ফোরণের শিকার হলো একটি বন্য হাতি। মিয়ানমারের ভেতরে বিদ্রোহী সংগঠন আরকান আর্মির পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে হাতিটির ডান পায়ের গোড়ালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সীমান্তের মিয়ানমার অংশে বিকট শব্দ শোনা যায়। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও বিকেলে আহত হাতিটিকে বাংলাদেশ অংশে নাইক্ষ্যংছড়ির সদর ইউনিয়নের জামছড়ি এলাকায় খুঁড়িয়ে আসতে দেখা যায়।
আহত অবস্থায় হাতিটি স্থানীয় কৃষকের পানের বরজ ও ধানক্ষেতের কিছু অংশ নষ্ট করে। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সীমান্তের জিরো লাইনে হাতিটির অবস্থান দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, “হাতিটি খুব কষ্টে হাঁটছিল। আমরা সীমান্তে জিরো লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি।”
আরেক বাসিন্দা নুরুল আলম জানান, হাতিটি ফসল নষ্ট করলেও তাকে দেখে মায়া জাগে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মো. মাশরুরুল হক বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত হয়েছে। আহত দুটি হাতির মধ্যে একটি মা হাতি ও একটি শাবক।
এর আগে গত ১১ আগস্ট একই সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের মাইন বিস্ফোরণে একটি বড় হাতি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিল। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ফের একই ধরনের ঘটনায় বন্যপ্রাণীর ওপর বিপর্যয় নেমে এলো।
প্রাণীপ্রেমী ও পরিবেশবিদরা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের ভেতরে পুঁতে রাখা স্থলমাইন শুধু মানুষের জন্য নয়, হাতিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।


