বান্দরবানের টেকনাফ সীমান্তের নাফ নদীতে বাংলাদেশি জলসীমায় ঢুকে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) নিয়মিতভাবে জেলেদের অপহরণ করছে। পরে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সম্প্রতি ১৭ দিন বন্দি থাকার পর ফেরত আসা ২৯ জন জেলে এ তথ্য জানিয়েছেন।
বাংলাদেশি সিম ব্যবহার করে মুক্তিপণ আদায়
অপহরণের পর ভুক্তভোগীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মোবাইল নম্বর চায় আরাকান আর্মি। নম্বর না দিলে চালানো হয় শারীরিক নির্যাতন। তাদের হাতে থাকা বাংলাদেশি সিমকার্ড থেকে ফোন করে জনপ্রতি ২ থেকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এই সিমে মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধাও থাকে, যার মাধ্যমে অর্থ লেনদেন সম্পন্ন হয়।
১৭ দিনের বন্দি জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
৩৫ বছর বয়সী মৎস্যজীবী মাহমুদুল হাসান জানান, তাকে ও তার সঙ্গীদের একটি বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৪৮ ঘণ্টা অস্বাস্থ্যকর সংকীর্ণ একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। বন্দিদের মাত্র একটি বালতি দিয়ে মূত্র ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। খাবার হিসেবে দেওয়া হতো একমুঠো ভাত ও সেদ্ধ কলার কাণ্ড, কখনো পচা মসুর ডাল ও দূষিত পানি।
২০ বছর ধরে মাছ ধরা পেশায় থাকা শফিউল্লাহ জানান, প্রতিদিন দুই-তিনজন করে নতুন জেলেকে ধরে নিয়ে যেত আরাকান আর্মি। একই সময়ে অনেককে মুক্তিও দেওয়া হতো। বন্দিদের মুক্তির জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করত তারা।
২১ বছর বয়সী আব্দুর রহমান জানান, বন্দিত্বের সময় কিছু আরাকান আর্মির সদস্য বাংলায় কথা বলছিলেন। তিনি শুনেছেন, তারা এর আগেও বাংলাদেশি জেলেদের অপহরণ করে ৩৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে।
বিজিবির প্রতিক্রিয়া
বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান জানান, সাধারণত বাংলাদেশি নৌকা মিয়ানমারের জলসীমায় ঢুকলে আরাকান আর্মি তাদের ধরে নিয়ে যায়। তবে তারা বাংলাদেশ জলসীমায় ঢুকে অপহরণ করেছে, এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, বিজিবির পক্ষ থেকে যোগাযোগের পর বেশ কয়েকজন জেলেকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ক্রমবর্ধমান এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

-পার্বত্য সময়