কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী উপজেলা টেকনাফে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অপহরণকারীরা। পাহাড়কেন্দ্রিক কমপক্ষে ১০টি সক্রিয় চক্রের ভয়ঙ্কর তৎপরতায় পুরো অঞ্চলজুড়ে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বাহারছড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে রাত হলে লাঠি হাতে গ্রামবাসীকেই পাহারায় দাঁড়াতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে টেকনাফে অন্তত ২০০ জন মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছেন। অধিকাংশ ভুক্তভোগীই প্রাণের ভয়ে মামলা করতে পারেননি। রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপ ছাড়াও স্থানীয় কয়েকটি অপহরণকারী দলের অস্তিত্ব ও প্রভাব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব চক্রে সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩০০।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, টেকনাফের পাহাড়ে রোহিঙ্গা অপহরণকারী চক্র ছালেহ, সালমান শাহ, পুতিয়া, শফি ও মনিয়া দল দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। সম্প্রতি শফিচক্রের প্রধান শফি গ্রেপ্তার হলেও তার সহযোগীরা এখনো অপহরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এসব গ্রুপ দেশি–বিদেশি অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে এবং পাহাড়ে ভ্রাম্যমাণ আস্তানা বদলে অভিযান এড়ায়।
হ্নীলা ও বাহারছড়া এলাকায় স্থানীয় অপহরণকারীরাও শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। হ্নীলা ইউনিয়নের উলুচামারীর জালাল উদ্দীন ওরফে ‘লাশ জালাল’, আবুল আলম, শাহ আলম, হারুন, গিয়াস ও আনোয়ার ওরফে ‘লেড়াইয়া ডাকাত’-এর নেতৃত্বে কয়েকটি দল নিয়মিত অপহরণ চালাচ্ছে। এসব চক্রের আলাদা বাহিনীও রয়েছে।
বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা সম্প্রতি অভিযানে আট অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছেন। তবে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় অপহৃতদের উদ্ধার সবসময়ই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। পুলিশ জানায়, গত এক বছরে শুধু বাহারছড়া ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন কমপক্ষে ৩০টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।
গত ৩০ নভেম্বর শীলখালি পূর্বপাড়ায় খেলার সময় চার কিশোরকে অপহরণ করে অন্তত ১৪ জনের একটি দল। চার দিন পর তাদের পরিবারের কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে অপহরণকারীরা চারজনকে ছেড়ে দেয়। অন্য দুই কিশোর কৌশলে পালিয়ে আসে। মুক্তিপণ দিয়ে ফেরা কিশোরদের মধ্যে ছিলেন মো. মামুন (১৭), আনোয়ার হোসেন (১৪), গিয়াস উদ্দিন (১৫) ও আবু বক্কর ছিদ্দিক (১৩)।
অপহৃত আনোয়ারের বাবা মো. হোসেন বলেন, “অপহরণের পরই জনপ্রতি দুই লাখ টাকা দাবি করে ফোন আসে। শেষ পর্যন্ত ছয় লাখ টাকা দিয়ে ছেলেদের ফেরত নিতে হয়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক পরিবার অপহরণের ঘটনায় পুলিশ বা সাংবাদিকদের জানাতে ভয় পায়। জানালে অপহৃতদের হত্যা করার হুমকি দিয়ে থাকে সশস্ত্র গ্রুপগুলো। বাহারছড়া দারুল ইসলাম দাখিল মাদরাসার শিক্ষক মৌলভী জমির হোসেন বলেন, “সন্ধ্যার পর ঘরের বাইরে বের হওয়ার সাহস নেই। দুর্বৃত্তরা পাহাড় থেকে নেমে লোকজনকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে।” তার চাচাতো ভাই মায়মুনকে অপহরণ করে দুই লাখ টাকা দাবি করেছে অপহরণকারীরা।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ১৩১টি—উখিয়ায় ৯২ ও টেকনাফে ৩৯টি মামলা হয়েছে।
বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস জানান, সাম্প্রতিক কিশোর অপহরণের অভিযোগ পরিবার থেকে এখনও পাওয়া যায়নি। তিনি দাবি করেন, মুক্তিপণ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কিছু জানায়নি। তাঁর মতে, টেকনাফের চারটি ইউনিয়ন পাহাড়বেষ্টিত ও দুর্গম হওয়ায় কিছু রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী এবং স্থানীয় দুর্বৃত্তরা সুযোগ বুঝে অপহরণ চালিয়ে যাচ্ছে।
চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা এখন নিজেদের পাহারা। রাত হলে শীলখালী, উত্তর শীলখালী, দক্ষিণ শীলখালীসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে পালাক্রমে লাঠি হাতে টহলে থাকছেন গ্রামবাসী।টেকনাফে বছরে অপহরণ অন্তত ২০০, রাতজেগে পাহারা গ্রামে গ্রামে
কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী উপজেলা টেকনাফে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অপহরণকারীরা। পাহাড়কেন্দ্রিক কমপক্ষে ১০টি সক্রিয় চক্রের ভয়ঙ্কর তৎপরতায় পুরো অঞ্চলজুড়ে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বাহারছড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে রাত হলে লাঠি হাতে গ্রামবাসীকেই পাহারায় দাঁড়াতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে টেকনাফে অন্তত ২০০ জন মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছেন। অধিকাংশ ভুক্তভোগীই প্রাণের ভয়ে মামলা করতে পারেননি। রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপ ছাড়াও স্থানীয় কয়েকটি অপহরণকারী দলের অস্তিত্ব ও প্রভাব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব চক্রে সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩০০।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, টেকনাফের পাহাড়ে রোহিঙ্গা অপহরণকারী চক্র ছালেহ, সালমান শাহ, পুতিয়া, শফি ও মনিয়া দল দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। সম্প্রতি শফিচক্রের প্রধান শফি গ্রেপ্তার হলেও তার সহযোগীরা এখনো অপহরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এসব গ্রুপ দেশি–বিদেশি অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে এবং পাহাড়ে ভ্রাম্যমাণ আস্তানা বদলে অভিযান এড়ায়।
হ্নীলা ও বাহারছড়া এলাকায় স্থানীয় অপহরণকারীরাও শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। হ্নীলা ইউনিয়নের উলুচামারীর জালাল উদ্দীন ওরফে ‘লাশ জালাল’, আবুল আলম, শাহ আলম, হারুন, গিয়াস ও আনোয়ার ওরফে ‘লেড়াইয়া ডাকাত’-এর নেতৃত্বে কয়েকটি দল নিয়মিত অপহরণ চালাচ্ছে। এসব চক্রের আলাদা বাহিনীও রয়েছে।
বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা সম্প্রতি অভিযানে আট অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছেন। তবে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় অপহৃতদের উদ্ধার সবসময়ই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। পুলিশ জানায়, গত এক বছরে শুধু বাহারছড়া ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন কমপক্ষে ৩০টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।
গত ৩০ নভেম্বর শীলখালি পূর্বপাড়ায় খেলার সময় চার কিশোরকে অপহরণ করে অন্তত ১৪ জনের একটি দল। চার দিন পর তাদের পরিবারের কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে অপহরণকারীরা চারজনকে ছেড়ে দেয়। অন্য দুই কিশোর কৌশলে পালিয়ে আসে। মুক্তিপণ দিয়ে ফেরা কিশোরদের মধ্যে ছিলেন মো. মামুন (১৭), আনোয়ার হোসেন (১৪), গিয়াস উদ্দিন (১৫) ও আবু বক্কর ছিদ্দিক (১৩)।
অপহৃত আনোয়ারের বাবা মো. হোসেন বলেন, “অপহরণের পরই জনপ্রতি দুই লাখ টাকা দাবি করে ফোন আসে। শেষ পর্যন্ত ছয় লাখ টাকা দিয়ে ছেলেদের ফেরত নিতে হয়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক পরিবার অপহরণের ঘটনায় পুলিশ বা সাংবাদিকদের জানাতে ভয় পায়। জানালে অপহৃতদের হত্যা করার হুমকি দিয়ে থাকে সশস্ত্র গ্রুপগুলো। বাহারছড়া দারুল ইসলাম দাখিল মাদরাসার শিক্ষক মৌলভী জমির হোসেন বলেন, “সন্ধ্যার পর ঘরের বাইরে বের হওয়ার সাহস নেই। দুর্বৃত্তরা পাহাড় থেকে নেমে লোকজনকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে।” তার চাচাতো ভাই মায়মুনকে অপহরণ করে দুই লাখ টাকা দাবি করেছে অপহরণকারীরা।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ১৩১টি—উখিয়ায় ৯২ ও টেকনাফে ৩৯টি মামলা হয়েছে।
বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস জানান, সাম্প্রতিক কিশোর অপহরণের অভিযোগ পরিবার থেকে এখনও পাওয়া যায়নি। তিনি দাবি করেন, মুক্তিপণ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কিছু জানায়নি। তাঁর মতে, টেকনাফের চারটি ইউনিয়ন পাহাড়বেষ্টিত ও দুর্গম হওয়ায় কিছু রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী এবং স্থানীয় দুর্বৃত্তরা সুযোগ বুঝে অপহরণ চালিয়ে যাচ্ছে।
চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা এখন নিজেদের পাহারা। রাত হলে শীলখালী, উত্তর শীলখালী, দক্ষিণ শীলখালীসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে পালাক্রমে লাঠি হাতে টহলে থাকছেন গ্রামবাসী।
সূত্র- কালের কণ্ঠ


