ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–পরবর্তী সরকারের সামনে পাঁচটি বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন সামাল দেওয়া, উগ্রপন্থা মোকাবিলা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ। এর পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যর্পণ ও জলবায়ু সংকটও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আন্তর্জাতিক সংকট বিশ্লেষক সংস্থা ‘ক্রাইসিস গ্রুপ’।
সংস্থাটির বাংলাদেশ ও মিয়ানমারবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরামর্শক টমাস কিনের লেখা বিশ্লেষণমূলক নিবন্ধটি সোমবার সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। ‘অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ঘণ্টা: ঘনিয়ে আসছে নির্বাচন’ শিরোনামের ওই লেখায় বলা হয়, দুর্বল প্রতিষ্ঠান, মন্থর অর্থনীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নতুন সরকারের জন্য বড় চাপ তৈরি করবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা এবং মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থানরত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর ভবিষ্যৎ- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর হিযবুত তাহ্রীরসহ কট্টরপন্থি গোষ্ঠীর সক্রিয়তা এবং চরমপন্থা দমনে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
ক্রাইসিস গ্রুপ মনে করছে, তরুণদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা ভবিষ্যতে সবচেয়ে বড় অস্থিরতার কারণ হতে পারে। দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী ৩০ বছরের নিচে, যাদের বড় অংশ শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজ না পেয়ে হতাশ। তারা শুধু চাকরি নয়, স্বচ্ছতা ও উন্নয়নের ন্যায্য বণ্টনও প্রত্যাশা করে।
রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়টিকেও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতিহাস ও বড় ভোটব্যাংকের কারণে আওয়ামী লীগকে দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতির বাইরে রাখা সম্ভব নয়। তবে ২০২৪ সালের সহিংসতার জন্য দলটির অনুশোচনা প্রকাশ ছাড়া রাজনৈতিক পুনর্গঠন কঠিন হবে। এ ক্ষেত্রে ভারতসহ প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যস্থতার কথাও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
ক্রাইসিস গ্রুপের মতে, নির্বাচিত সরকার রাজনৈতিক বৈধতার কারণে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। তবে কাজের পরিধি হবে অনেক বেশি। বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর উচিত, বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
প্রতিবেদনটিতে অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু অর্জনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক ঐকমত্য গঠনের পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন অন্যতম। ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবসংবলিত ওই সনদে ২৫টি দল সই করেছে। তবে পুলিশ ও নিরাপত্তা খাত সংস্কারে অগ্রগতির ঘাটতি এবং মব সহিংসতা ও বিচারহীনতা নিয়ে জনঅসন্তোষের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। নির্বাচনের দিন সংবিধান সংস্কার নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং সব সংস্কার বাস্তবায়ন পরবর্তী সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করবে।


