যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরের পর বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে আরোপিত পাল্টা শুল্ক ১ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সময় আজ সোমবার রাত ১০টায় এই চুক্তিতে স্বাক্ষর হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে তৈরি পোশাক দেশটিতে রপ্তানি করলে আর কোনো পাল্টা শুল্ক দিতে হবে না। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামালে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশ।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার স্বাক্ষর করেন। তবে চুক্তি সইয়ের পরপরই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামীকাল বেলা আড়াইটায় চুক্তির সার্বিক দিক তুলে ধরা হবে।

চুক্তিকে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পোশাক রপ্তানিকারকেরা। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হা–মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা মিলবে, যা রপ্তানি বাড়াতে সহায়ক হবে।

May be an image of one or more people and dais
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বাংলাদেশ থেকে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

তবে চুক্তির শর্ত নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন অর্থনীতিবিদেরা। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চুক্তির শর্ত বিস্তারিতভাবে না জানলে এর লাভ–লোকসান মূল্যায়ন করা কঠিন। ভবিষ্যতে এই চুক্তির দায়ভার পরবর্তী সরকারের ওপর পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল বাংলাদেশসহ শতাধিক দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। প্রথমে বাংলাদেশের জন্য শুল্কহার ছিল ৩৭ শতাংশ, যা ধাপে ধাপে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানো হয়। সর্বশেষ চুক্তির ফলে তা আরও কমে ১৯ শতাংশে দাঁড়াল। পাল্টা শুল্কসহ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের মোট শুল্কহার প্রায় ৩৪ শতাংশ।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি করে ৬০০ কোটি ডলার এবং আমদানি করে ২০০ কোটি ডলারের পণ্য।