ভয়েস অফ আমেরিকা এর সাথে একান্ত সাক্ষাত্কারে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গ্রহণ করা অব্যাহত রাখবে। তবে এই সংকট মোকাবেলায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তার সরকার ১০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে সরকারিভাবে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে কিনা জানতে চাইলে ইউনূস স্পষ্ট করে বলেন যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ইতিমধ্যেই তাদের শরণার্থী মর্যাদা দিয়েছে। তিনি বলেন, "যদি তারা উদ্বাস্তু না হতো, ইউএনএইচসিআর তাদের কাছে পৌঁছাতে পারত না।"  তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ তাদের নিজ দেশ না হলেও আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে তাদের শরণার্থী মর্যাদা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ইউনূস সাম্প্রতিক আরও হাজার হাজার রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের বিষয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জীবনের জন্য পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, যদি তারা আসতে চায়, আমরা তাদের অনুমতি দেব। আমরা তাদের গ্রহণ করব। এবং তারপরে যা যা প্রয়োজন আমরা করব"। 
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের দায় একা বাংলাদেশের উপর চাপানো যাবে না। তিনি বৃহত্তর বৈশ্বিক সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান।
পরিস্থিতির ক্রমবর্ধমান জটিলতা তুলে ধরে ইউনূস উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রসার ঘটছে, প্রতি বছর প্রায় ৩২,০০০ শিশু শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেয়। এই শিশুরা, পুরানো প্রজন্মের সাথে, একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। তারা উন্নতির সুস্পষ্ট কোনো সম্ভাবনা ছাড়াই ক্যাম্পে বন্দী। 
ইউনূস সতর্ক করেছেন, এই দীর্ঘ বন্দিত্ব, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর মধ্যে হতাশা সম্ভাব্য বিদ্রোহের জন্ম দিতে পারে।
ইউনুস বলেন, "আমরা জানি না এটি কীভাবে ছড়িয়ে পড়বে, কোথায় যাবে। আমরা সত্যিই জানি না, তাই সারা বিশ্বের উচিত কীভাবে তাদের একটি সন্তোষজনক জীবন পেতে সাহায্য করা যায় সেদিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। আমরা একটি সমাধান খুঁজছি।" রোহিঙ্গাদের টেকসই সুযোগ প্রদান এবং আরও অস্থিতিশীলতা রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

-পার্বত্য সময়