মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হেফাজত থেকে ১৬ বাংলাদেশি জেলেকে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
গতকাল সোমবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় মিয়ানমার আরাকান আর্মি নাফ নদী দিয়ে জেলেদেরকে বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে বিজিবি।
টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নে এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, গত সোমবার (১৪ অক্টোবর) রাতে মিয়ানমারের আরাকান আর্মি নাফ নদীর শূন্য রেখায় এসে জেলেদেরকে টেকনাফ বিজিবির নিকট হস্তান্তর করেন।
বিজিবি জানিয়েছে, জেলেদের মারধরের পর ডেকের ভেতর বন্দি করে ডাকাতরা ট্রলারটি ছেড়ে দিলে সেটি মিয়ানমারের একটি চরে গিয়ে আটকায়। এরপর ভুক্তভোগী জেলেদের হেফাজতে নেয় মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। পরে জেলেরা মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের মাধ্যমে আরাকান আর্মির সাথে যোগাযোগ করে এবং তাদের নিকট আত্মসমর্পণ করে। ছয় দিন তাদের হেফাজতে থাকার পর গত সোমবার সন্ধ্যায় নাফ নদীর শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত দিয়ে বিজিবি ১৬ জেলেকে ফিরিয়ে আনে।
ফেরত আসা বাংলাদেশি জেলেরা হলেন কক্সবাজারের রামু উপজেলার তুরিঙ্গাকাটা গ্রামের ইসমাইল (২৭), কক্সবাজার সদরের আব্দুল হাফেজ (২৮), আজিজুর রহমান (৪৫), আবু হেনা (৪০), আলী (৪০), আরাফাত (৩০), মো. হেলাল (২৮), আমান উল্লাহ (৫০), নবী হোসেন (২৮), মো. সলিমুল্লাহ (৪৫), মো. ইউনুস (৫২),  মো. সাগর (২২), মো. সেলিম (২৮), দিল মোহাম্মদ (২৭) এবং রহিম উল্লাহ (৫২) ও মো. জয়নাল (৫৫)।
ফিরিয়ে আনা ১৬ জন জেলেকে আত্মীয়-স্বজনের সাথে যোগাযোগ করে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন বিজিবির ওই কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মিয়ানমারের আরকান আর্মি নাফ নদীতে মাছ শিকার কালে ৫ জন জেলেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে বিজিবি তাদের সাথে যোগাযোগ করে ফিরিয়ে আনে। এছাড়াও মিয়ানমারের নৌ বাহিনী বঙ্গোপসাগরে জেলেদের উপর গুলি ছুঁড়ে। এ ঘটনায় একজন জেলে নিহত হয়। পরে কোস্ট গার্ড তাদের সাথে যোগাযোগ করে ৫৮ জন জেলেকে ফিরিয়ে আনে।

  • -পার্বত্য সময়