দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশে আবারও নির্বাচনের সময় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। টানা ১০ কার্যদিবস শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
আপিল বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
যদিও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল হয়েছে, তবুও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এই কাঠামোর অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বর্তমান সাংবিধানিক অবস্থায় এ ব্যবস্থার পুনর্বহালের পর তা তৎক্ষণাৎ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সংবিধান অনুযায়ী সংসদ ভাঙার ১৫ দিনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিধান থাকলেও এখন সেই পরিস্থিতি আর বিদ্যমান নেই। সংসদ ভেঙে গেছে এক বছরেরও বেশি সময় আগে, ফলে সেক্ষেত্রে এই নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সাংবিধানিক সুযোগ নেই।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে শুনানিকারী আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সম্ভব নয়। এ ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে। একই মত প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি জানান, দেশ বর্তমানে একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, যাদের তিনটি মূল দায়িত্ব- বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। তাদের অধীনেই আসন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
শুনানিতে বদিউল আলমের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন ড. শরীফ ভুইয়া। বিএনপি, জামায়াতসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের আইনজীবীরাও এতে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
২০১১ সালের ১০ মে বিচারপতি খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের রায়ে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল হওয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ৩০ জুন পাস হওয়া সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়। তবে গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের পর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ ধারা বাতিল করলে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহালের আইনি পথ খুলে যায়। সেই ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগ আজকের রায় ঘোষণা করলো।
সব মিলিয়ে, সর্বোচ্চ আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতার প্রশ্নে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। তবে রায়ের কার্যকর প্রয়োগ দেখতে দেশকে অপেক্ষা করতে হবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত।


