সম্প্রতি মিজোরামে মাদকসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (PCJSS)-এর দুই সদস্য আটক হওয়ার ঘটনায় চাকমা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উঠা 'নারকো-টেররিস্ট' অপবাদের প্রতিবাদে ভারতের চাকমা রাজনীতিবিদদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন বিশ্বব্যাপী বসবাসরত প্রবাসী চাকমা নেতৃবৃন্দ।
চিঠিতে তারা দাবি করেছেন- ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে পুরো চাকমা সম্প্রদায়কে অপরাধী হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে, তা এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এতে সাধারণ চাকমারা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯ জুন মিজোরামের লুংলেই জেলায় প্রায় ১০.৪৩ কোটি টাকা মূল্যের মেথ ট্যাবলেটসহ আটক সপনা চাকমা ও পুন্যসূর চাকমা সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস (PCJSS)-এর সক্রিয় সদস্য। সন্তু লারমা ২৭ বছর ধরে কোনো নির্বাচিত ম্যান্ডেট ছাড়াই জেএসএস পরিচালনা করছেন, যার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র পাচার, মাদক ব্যবসা ও ভারত-বিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

এই প্রসঙ্গে চিঠিতে বলা হয়, “সন্তু লারমা ও তার পরিবারের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে জেএসএস একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। তারা চাকমা জাতিকে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রে পরিণত হয়েছে। এই সংগঠনের সঙ্গে চাকমা জাতির স্বকীয়তা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।”
চিঠিতে আরও দাবি করা হয়, সংগঠনটি বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অস্ত্র ও মাদক পাচার, এমনকি মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত। তাদের এসব অপকর্মের দায়ভার গোটা চাকমা জাতির উপর বর্তাচ্ছে, যা অবিচার এবং অগ্রহণযোগ্য।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন প্রবাসী চাকমা নেতারা, যাদের মধ্যে রয়েছেন—সুইজারল্যান্ডের Swiss Jumma Association-এর সভাপতি সঞ্চয় চাকমা, কানাডার CHT Defence Force-এর প্রজ্ঞা তপস চাকমা, চীনের Jumma Students Union-এর সাতু চাকমা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার Voice of Jumma Youth-এর সজিব চাকমা।
তারা ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরার চাকমা মন্ত্রী, বিধায়ক, জেলা পরিষদ সদস্য ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের কাছে আবেদন করেছেন, যাতে তারা জেএসএস ও সন্তু লারমার কার্যকলাপ থেকে নিজেদের আলাদা করে চাকমা জাতির সম্মান রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেন।
চিঠিতে প্রবাসী চাকমা নেতৃবৃন্দ সরাসরি বলেন, “আমরা সন্তু লারমা নই। আমরা জেএসএস নই। আমরা চাকমা। আমাদের জাতিকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেন না।”
চিঠিটি ভারতের ২১ জন চাকমা রাজনীতিবিদ ও সংগঠনের নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে- জেএসএস-এর দমন এবং চাকমা জাতির স্বকীয়তা রক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করতে।
চাকমা সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ বিশ্বাস করে, সংগঠনভিত্তিক অপরাধচক্রের দায়ভার গোটা জাতির উপর চাপিয়ে দেওয়া ভয়াবহ বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তাই সময় এসেছে প্রগতিশীল, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের মাধ্যমে চাকমা জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে এ ধরনের অপবাদ ও দুর্নাম থেকে রক্ষা করার।


