ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর নতুন মন্ত্রিসভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কার হাতে যাচ্ছে- তা নিয়ে পাহাড়জুড়ে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের তিনটি সংসদীয় আসনেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ায় পার্বত্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ধারা অনুযায়ী সাধারণত এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কোনো পাহাড়ি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধির হাতে দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। সে বিবেচনায় মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন রাঙামাটি-২৯৯ আসনের বিজয়ী বিএনপি সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান এবং বান্দরবান-৩০০ আসনের নির্বাচিত এমপি সাচিংপ্রু জেরী।

অন্যদিকে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের বিজয়ী বিএনপি এমপি ওয়াদুদ ভূঁইয়া বাঙালি হওয়ায় কারণে তাকে এ আলোচনায় তাকে সম্পৃক্ত করছেন না কেউ।

মন্ত্রণালয়ের কাঁধেই তিন পার্বত্য জেলার প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও শান্তি-সংক্রান্ত সংবেদনশীল দায়িত্ব বর্তায়। বিএনপি চেয়ারম্যান ও সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাকে এই দায়িত্বে আস্থাভাজন করবেন- সেদিকেই তাকিয়ে আছে পাহাড়।

সূত্র জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দীপেন দেওয়ান ও সাচিংপ্রু জেরী দুজনের নামই  আলোচনায় রয়েছে। তবে সবকিছু চূড়ান্ত হবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই। যোগ্যতা, রাজনৈতিক ভারসাম্য ও পাহাড়ের বাস্তবতা- সব দিক বিবেচনা করেই মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর ১৯৯৮ সালে গঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রথম মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য কল্পনরঞ্জন চাকমা (১৯৯৮–২০০১)। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত এমপি মনি স্বপন দেওয়ান উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০০৭–২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর রাঙামাটির এমপি দীপংকর তালুকদার প্রতিমন্ত্রী হন (২০০৯–২০১৪)। পরে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন বান্দরবানের এমপি বীর বাহাদুর উশৈসিং। ২০২৪ সালে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর খাগড়াছড়ির এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। একই বছর ৫ আগস্ট গণ-আন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় সাবেক রাষ্ট্রদূত সুপ্রদীপ চাকমা-কে।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর বিএনপির ক্ষমতায় ফেরা পাহাড়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। এখন প্রশ্ন একটাই- রাঙামাটির দীপেন দেওয়ান, না কি বান্দরবানের সাচিংপ্রু জেরী- কে পাচ্ছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব? পাহাড় অপেক্ষায়, সিদ্ধান্তের ভার এখন নতুন প্রধানমন্ত্রীর হাতে।