বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের যৌথ উদ্যোগে আগামীকাল (৩০ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কে রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে জাতিসংঘের শতাধিক সদস্য রাষ্ট্র, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্ব অংশ নেবেন।

বাংলাদেশের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি তুলে ধরবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বিশ্ব নেতাদের সামনে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠা, শরণার্থী শিবিরের নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা উপস্থাপন করবেন।

বাংলাদেশে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রাপ্তদের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ, যার বেশির ভাগই ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্য থেকে আসে। সরকারের কাছে এদের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে, যা বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহযোগিতায় করা হয়। তবে সম্প্রতি কিছু আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা আর্থিক সহায়তা কমিয়ে দেয়ায় সরকার উদ্বিগ্ন।

গত বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা। তার ধারাবাহিকতায় এই বছর আগস্টে কক্সবাজারে প্রস্তুতিমূলক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কূটনীতিক ও দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদরা অংশ নেন এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, “উদ্দেশ্য হলো রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ফোরামে পুনরায় গুরুত্ব দেওয়া, যাতে বিশ্বের মানুষ এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়া বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে নেবে।”

সম্মেলনে অংশ নেবেন বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ নেতারাও। তবে চীন ও মায়ানমারের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। প্রেস সচিব জানান, “তাদের বক্তব্যসমূহ লিপিবদ্ধ করে নিউ ইয়র্কে উপস্থাপন করা হবে।”

শফিকুল আলম আরও বলেন, “ফিলিস্তিন, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন স্থানে অস্থিরতার কারণে রোহিঙ্গা ইস্যু অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে। জাতিসংঘের এই সম্মেলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পুনরায় বিষয়টি নিয়ে ওয়াকিবহাল হবে।