সংঘাত, আর্থসামাজিক সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে ১ কোটি ২৭ লাখ শিশুর শিক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই কারণে বিশ্বজুড়ে ২৫ কোটিরও বেশি শিশু-কিশোরের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ শিশু স্কুল থেকে পুরোপুরি ঝরে পড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছে ‘এডুকেশন ক্যাননট ওয়েট’ (Education Cannot Wait), যা সংকটপূর্ণ অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের উদ্যোগে গঠিত একটি বৈশ্বিক তহবিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৮ মাসে সংঘাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সংকটে থাকা শিশুর সংখ্যা আরও ২ কোটি ১০ লাখ বেড়েছে। ফলে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী এ ধরনের শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ কোটি ৮০ লাখে।
গবেষণায় স্কুলগামী বয়সী সেই সব শিশু-কিশোরের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যাদের শিক্ষা সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং দীর্ঘস্থায়ী আর্থসামাজিক সংকটের কারণে ব্যাহত হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসব কারণে বিশ্বে ৯ কোটি ৩০ লাখ শিশু স্কুল থেকে সম্পূর্ণভাবে ছিটকে পড়েছে।
শিক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া শিশুদের প্রায় ৬০ শতাংশ মাত্র নয়টি দেশে বসবাস করে। দেশগুলো হলো আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইথিওপিয়া, মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, সুদান এবং ইয়েমেন।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে স্কুলে যাওয়ার বয়সী প্রায় ৪ কোটি ২৮ লাখ শিশু রয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ২৭ লাখ শিশুর শিক্ষা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ক্ষতির প্রধান কারণ হিসেবে ৯৮ দশমিক ১ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগকে দায়ী করা হয়েছে। বাকি ১ দশমিক ৯ শতাংশ ক্ষেত্রে দায়ী আর্থসামাজিক সংকট।
এডুকেশন ক্যাননট ওয়েটের পরিচালক মায়সা জালবুত বলেন, ‘সংঘাত এবং জলবায়ু পরিবর্তন শিক্ষাক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতিকে পিছিয়ে দিচ্ছে। এই প্রতিবেদনের ফলাফল দেখিয়ে দিচ্ছে কোথায় সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন এবং কোথায় বিনিয়োগ করলে সর্বাধিক ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করা সম্ভব।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশ হিসেবে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সহনশীল ও টেকসই করে গড়ে তুলতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন।


