দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পেল রাঙামাটি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। পার্বত্য চুক্তির পর এই প্রথম রাঙামাটির কোনো জনপ্রতিনিধির হাতে পূর্ণাঙ্গভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গেল- যা ঘিরে জেলায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন ও প্রত্যাশা।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর ১৯৯৮ সালের ১৫ জুলাই তিন পার্বত্য জেলা নিয়ে গঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। শুরুতে দায়িত্বে ছিলেন খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত কল্পরঞ্জন চাকমা। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিত্ব গেছে কখনও খাগড়াছড়ি, কখনও বান্দরবানের ঝুলিতে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই রাঙামাটি ছিল পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিত্ব থেকে বঞ্চিত।

২০০১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত মনিস্বপন দেওয়ান উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের সময় দীপংকর তালুকদার হন প্রতিমন্ত্রী। ২০১৪ ও ২০১৯ সালে বান্দরবানের বীর বাহাদুর উশৈসিং প্রথমে প্রতিমন্ত্রী ও পরে পূর্ণমন্ত্রী হন। ২০২৪ সালে খাগড়াছড়ির কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা পান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।
অবশেষে ২০২৬- রাঙামাটির দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান।

দীপেন দেওয়ানের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথের খবর ছড়িয়ে পড়তেই জেলা জুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। দলীয় কার্যালয় থেকে চায়ের দোকান- সবখানেই মিষ্টিমুখ, শুভেচ্ছা আর অভিনন্দনের ঢল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছাবার্তার বন্যা বইছে। ইতিমধ্যে তাকে ঘিরে নাগরিক সংবর্ধনার ঘোষণাও এসেছে।

রাঙামাটি সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রনেল দেওয়ান বলেন, দুঃসময়ে দলের পাশে ছিলেন দীপেন দেওয়ান। সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে আসার সাহস আর দীর্ঘ দুই দশকের ত্যাগ- দল তার মূল্য দিয়েছে।

জেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভূট্টো বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান রাঙামাটির মানুষের রায়কে সম্মান জানিয়েছেন। দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়- এই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিত্ব তারই স্বীকৃতি।

এবারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো- এই প্রথম পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একসঙ্গে দুইজন মন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল।