বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নাফ নদীতে ফের জমেছে রোহিঙ্গা সঙ্কট। বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) রাত থেকে শুরু করে শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ১০০ জন রোহিঙ্গা নারী-শিশু ও বৃদ্ধ ব্যক্তি সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) তাদের আটকায় এবং নাফ নদীর মাঝখানে ফিরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় মানবিক সংকট যেমন গভীর হয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক নিষ্ক্রিয়তাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
আরাকান নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, এই রোহিঙ্গারা পশ্চিম আরাকান রাজ্যের বুথিডং ও মংডু এলাকা থেকে পালিয়ে এসেছে। তারা অভিযোগ করেছে, সম্প্রতি আরাকান আর্মির (এএ) পক্ষ থেকে ব্যাপক নিপীড়ন ও দমন-পীড়নের মুখে তারা নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। বহু পরিবারকে ভুয়া অভিযোগে বাড়িছাড়া করা হয়েছে, তাদের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে নিচ্ছে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। গ্রাম থেকে গ্রামে চলাচলের পথেও বসানো হয়েছে চেকপোস্ট ও টোল আদায়ের ব্যবস্থা।
বিশেষ করে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে- আরাকান আর্মির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী মাথাপিছু সাত লাখ কিয়াট (মিয়ানমার মুদ্রা) নিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ সীমানার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিজিবি সূত্র বলছে, এই ট্র্যাফিকিং কৌশল নতুন নয়, তবে এবারের মতো সংঘবদ্ধভাবে মানবপ্রবাহ চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনা আশঙ্কাজনক।
ভারতও চালাচ্ছে পুশ-ইন কৌশল, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিরব
শুধু মিয়ানমার নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকেও প্রতিনিয়ত বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ও মুসলিম শরণার্থী পুশ-ইন করা হচ্ছে। চলতি বছরেই মেঘালয়, আসাম ও ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে একাধিকবার বাংলাদেশে অবৈধভাবে লোক ঠেলার অভিযোগ উঠেছে। তবুও নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিবাদ নেই।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ, ওআইসি কিংবা ইন্দো-প্যাসিফিক কাঠামোর পক্ষ থেকেও মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে দেখা যাচ্ছে না। চীন ও ভারতের ভূরাজনৈতিক স্বার্থে রাখাইন অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের “স্ট্যাটলেস” বা অধিকারহীন করে রাখা যেন এক নীতিগত অবস্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষে আর সম্ভব নয়
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রায় দেড় মিলিয়ন রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। কক্সবাজার ও ভাসানচরের শিবিরগুলোতে ইতোমধ্যে বিশৃঙ্খলা, অপরাধ এবং জঙ্গি কার্যক্রমের বিস্তার ঘটেছে। সরকার বারবার সতর্ক করে বলেছে, আর একটি রোহিঙ্গাকেও নেয়ার সুযোগ নেই। দেশের জনসংখ্যা, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর এটি ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের ওপর একতাবদ্ধ চাপ না তৈরি করে, তবে বাংলাদেশে অস্থিরতা, উগ্রপন্থার উত্থান ও দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে একটি নতুন সংকটের জন্ম দিতে পারে রোহিঙ্গা ইস্যু।
সব দায় কি বাংলাদেশের?
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিকতার অনন্য নজির স্থাপন করলেও, এখন মনে হচ্ছে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ঢাকার ওপরই সব চাপ চাপিয়ে দিচ্ছে। ভারত ও চীন নিজেদের সীমান্তে রোহিঙ্গাদের আটকে রাখছে কিংবা ঠেলে দিচ্ছে, অথচ কোনো রাষ্ট্র নিন্দা করছে না। জাতিসংঘের তহবিল কমে গেছে, পুনর্বাসন পরিকল্পনা ঝুলে আছে, প্রত্যাবাসন দূরের কথা।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে- রোহিঙ্গা ইস্যু কি শুধুই বাংলাদেশের দায় হয়ে দাঁড়াবে?
বাংলাদেশমুখী ১০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠিয়ে বিশ্বকে নতুন বার্তা ঢাকার
নাফ নদী পার হওয়ার চেষ্টা করা রোহিঙ্গাদের বিজিবি ফিরিয়ে দেয়, ট্র্যাফিকিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ।
সি
স্টাফ রিপোর্টার
২৮ জুলাই, ২০২৫ ৫:৪৬ পূর্বাহ্ন২ মিনিট পড়া

ছবি: সংগৃহীত

