দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা ও দারিদ্র্য পরিস্থিতি নিরূপণে দেশব্যাপী জরিপ পরিচালনা করছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থা ও দারিদ্র্য পরিস্থিতি নিরূপণ জরিপ ২০২৫’ প্রকল্পের আওতায় ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপ ২০২৬’ নামে এ তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রম (০১ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে সরাসরি সাক্ষাৎকার পদ্ধতিতে, যা আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত হবে।

জরিপের মাধ্যমে দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনসংখ্যার আর্থসামাজিক অবস্থাসহ একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার (ডাটাবেইজ) প্রস্তুত করা হবে। পাশাপাশি তাদের জীবনযাত্রার মান, সম্পদ, শিক্ষা, পেশা, ভূমির মালিকানা, বাসস্থান, পানি ও স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সূচকের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

জরিপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবারগুলোর আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন করা। এ জন্য পরিবারগুলোর সরাসরি আয় নিরূপণের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্পদ ও জীবনযাত্রার সূচকের ভিত্তিতে প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) স্কোর প্রস্তুত করা হবে।

পিএমটি হলো এমন একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক পদ্ধতি, যার মাধ্যমে কোনো পরিবারের সরাসরি আয় জানা সম্ভব না হলেও তাদের বাসস্থানের ধরন, পরিবারের সম্পদ, শিক্ষা, পেশা, ভূমির মালিকানা, বিদ্যুৎ সুবিধা, পানির উৎস ও স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার একটি ধারণা পাওয়া যায়।

বিবিএস সূত্রে জানা গেছে, জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর দরিদ্র ও পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলো চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে এই পিএমটি স্কোর। এর ফলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া, উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং প্রয়োজনীয় সরকারি কর্মসূচি ও বাজেট নির্ধারণে আরও কার্যকর তথ্য পাওয়া যাবে।

এদিকে, জরিপের মাঠপর্যায়ের তথ্যসংগ্রহ শুরুর আগে সুপারভাইজার, মাস্টার ট্রেইনার ও সুপারভাইজিং কর্মকর্তাদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে মাস্টার ট্রেইনাররা ২৭ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সুপারভাইজার ও তথ্যসংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণ দেন। প্রশিক্ষণ শেষে ১ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী জরিপের মাঠপর্যায়ের তথ্যসংগ্রহ শুরু হয়েছে, যা চলবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেদিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. মাসুদ আলম এবং যুগ্মসচিব ড. দিপংকর রায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. শামীমুল হক।

বিবিএসের এই জরিপের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের আর্থসামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে হালনাগাদ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এসব তথ্য ভবিষ্যতে তাদের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং অধিকতর লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।