রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তার জন্য এ বছর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ৬৮ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ করেছে। ইইউর সমতা, প্রস্তুতি ও সংকট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিশনার হাদজা লাহবিব জানিয়েছেন, এই তহবিল বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ মিয়ানমারের সংঘাতময় অঞ্চল, বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শিকার রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য ব্যবহৃত হবে।
সোমবার (৪ মার্চ) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে এই ঘোষণা দেন ইইউ কমিশনার। তিনি বলেন, যদিও এবারের সহায়তা গত বছরের তুলনায় বেশি, তবে তহবিল ঘাটতির কারণে ক্যাম্পগুলোতে মানবিক পরিস্থিতির অবনতি রোধে এটি এখনও পর্যাপ্ত নয়।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের ভূমিকার কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, "এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সংকট, যার এখনো কোনো সমাধান হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই বোঝা বহন করে চলেছি, তবে সমস্যার মেয়াদ শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।"
তিনি আরও বলেন,"আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছি। জাতিসংঘের মহাসচিবও বাংলাদেশ সফরে আসছেন, যা এই সংকটের গুরুত্ব তুলে ধরবে।"
ইইউ কমিশনার হাদজা লাহবিব বলেন, "এই সংকটের একমাত্র সমাধান শান্তি প্রতিষ্ঠা। মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে, যার মধ্যে মিথ্যা তথ্যের প্রচারও অন্তর্ভুক্ত।"
বৈঠকে বাংলাদেশের বন্যা ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি খাত ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।
এসময় ড. ইউনূস নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে ইইউর সমর্থন চেয়ে বলেন, "জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে এগিয়ে যেতে চাই। নেপাল ও ভুটান আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিক্রি করতে আগ্রহী, তাই এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।"
এ প্রসঙ্গে ইইউ কমিশনার জানান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ইইউ বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
হাদজা লাহবিব ড. ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, "আপনি এক ক্রান্তিকালে অসাধারণ কাজ করছেন। আমরা সহযোগিতা জোরদার করতে প্রস্তুত।"
তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার উদ্যোগের প্রতি ইইউর সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, "আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সম্ভবত এই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।"
-পার্বত্য সময়


