টানা ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস–সংকটের মধ্যে নতুন করে সংকট আরও গভীর হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা তিনটা থেকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন এলএনজি কার্গো না আসায় টার্মিনালের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এর আগে গত শনিবার সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হলে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ে। তবে এক্সিলারেটের টার্মিনালে নতুন কার্গো না আসায় সোমবার থেকে সরবরাহ কমতে থাকে। বুধবার তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

পেট্রোবাংলা ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) সূত্র বলছে, এলএনজির মজুত না থাকায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা এবং আমদানির দায়িত্বে রয়েছে আরপিজিসিএল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কম দামে এলএনজি কিনতে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে বেশ কয়েকটি কার্গোর ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। চলতি মাসে চারটি কার্গো আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও দেশে পৌঁছায়নি। এসব কার্গো না আসায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

মহেশখালীতে এলএনজি আমদানির দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে—একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির এবং অন্যটি দেশীয় কোম্পানি সামিটের। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। শনিবার সেটি আবার এলএনজি সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হলেও নতুন কার্গো না থাকায় পুরোনো মজুত থেকে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল।

দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। এক্সিলারেট ও সামিটের টার্মিনালের মাধ্যমে এই এলএনজি জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন ব্যবস্থায় যুক্ত হয়।

এক্সিলারেটের টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের ৫০ কোটি ঘনফুট। গত শুক্রবার দুটি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় দেশে গ্যাস সরবরাহ নেমে যায় ১৬৪ কোটি ঘনফুটে। পরে সামিট থেকে সরবরাহ শুরু হলে শনিবার তা বেড়ে ২৪২ কোটি ঘনফুটে ওঠে। রোববার ২৪০ কোটি এবং সোমবার ২২৮ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়।

বুধবার এক্সিলারেটের সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ আরও কমে ২১৮ কোটি ঘনফুটে নেমেছে। একই সঙ্গে এলএনজি থেকে সরবরাহ মঙ্গলবারের ৬৬ কোটি ঘনফুট থেকে বুধবার কমে দাঁড়িয়েছে ৫৫ কোটি ঘনফুটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার একটি এলএনজি কার্গো দেশে আসার কথা রয়েছে, যা সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হতে পারে। অন্যদিকে এক্সিলারেটের জন্য ২৩–২৪ আগস্টের দিকে একটি কার্গো আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিন এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এতে শিল্প, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হতে পারে।