কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে নির্গত বর্জ্যের কারণে শত শত একর কৃষিজমি চাষাবাদের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ক্যাম্পের দূষিত বর্জ্যে নদী-খাল পরিণত হয়েছে ড্রেনে, জমিতে জমে থাকা বিষাক্ত পানিতে নষ্ট হচ্ছে ফসল। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন অন্তত এক হাজার স্থানীয় কৃষক। দ্রুত কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
উখিয়ার কৃষকরা জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প স্থাপনের পর থেকে সেই জমি পুরোপুরি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। যতই পরিষ্কার করি, ক্যাম্প থেকে পলিথিন, বোতল আর মেডিকেল বর্জ্য ভেসে এসে জমিতে জমে। জমি একেবারে মরে গেছে।
শুধু কৃষি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এলাকার জলজ সম্পদও। তেলিপাড়ার জেলে জাফর আলম বলেন, যে খালে আগে মাছ ধরতাম, সেটাই এখন নালায় পরিণত হয়েছে। পানি বিষাক্ত, মাছ নেই। নদী-খাল আর জমি-সব শেষ।
উখিয়া ও টেকনাফের কৃষি বিভাগ জানায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্যের প্রভাবে কৃষিজমির পরিমাণ ও উৎপাদন- দুটোই কমছে। বিভাগীয় তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে টেকনাফে আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ৭২৮ হেক্টর, যা ২০২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৬ হেক্টরে। একই সময়ে উখিয়ায় আবাদি জমি ১৬ হাজার ৮৪০ হেক্টর থেকে কমে ১৬ হাজার হেক্টরে নেমে এসেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্যের কারণে উখিয়া ও টেকনাফে অন্তত এক হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো সরকারি সহায়তা বা ক্ষতিপূরণ পাননি।
স্থানীয়দের দাবি, মানবিক আশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। অন্যথায় রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি চাপ কৃষি, পরিবেশ ও স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গভীর সংকটে ফেলবে।


