চাকরিতে পুনর্বহাল, শাস্তি মওকুফ ও ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছেন বরখাস্ত ও অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাবেক সেনাসদস্যরা। তবে তাদের ‘কিছু অনভিপ্রেত আচরণ’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
রোববার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর জানায়, জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় দিনভর চলা এ কর্মসূচিতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে সরাসরি উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য শোনে এবং তাদের দাবি প্রক্রিয়াগতভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেয়।
আইএসপিআর জানিয়েছে, প্রতিনিধিদল দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সুরাহার পথ খুঁজতে প্রস্তুত ছিল। তবে বৈঠক শেষে ফেরার সময় কিছু বরখাস্ত সেনাসদস্য গাড়ির গতিরোধ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়েন এবং অশালীন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের আচরণ একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করে। আইএসপিআর জানায়, এখন পর্যন্ত ৮০২টি আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০৬টি ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বাহিনীর প্রচলিত বিধি-বিধানের আলোকে সব আবেদন মানবিকতা ও ধৈর্যের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে কোনো দাবিদাওয়া তৃতীয় পক্ষ বা ব্যানারের মাধ্যমে নয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সরাসরি উপস্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাংবিধানিক কাঠামো ও শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পুনরায় সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করেছে আইএসপিআর।