জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০২৫ সালে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি বিশেষ বৈশ্বিক সম্মেলন আয়োজনের সম্মতি জানিয়েছে। এই সম্মেলনের প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। আশা করা হচ্ছে, এই সম্মেলন থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের একটি টেকসই পথ খুঁজে পাওয়া যাবে।
বুধবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান প্রসিকিউটর করিম এ খান। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, মিয়ানমারের পরিস্থিতি, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা এবং গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধ নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রসিকিউটর করিম খান জানান, তার কার্যালয় ইতোমধ্যেই মিয়ানমার সামরিক সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়েছে। এছাড়া তিনি প্রধান উপদেষ্টার সম্মেলনের আহ্বানকে সমর্থন জানান।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সম্মেলনের স্থান, তারিখ এবং কার্যপ্রণালি নির্ধারণ করবে ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে। প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস আশা প্রকাশ করেছেন, এই সম্মেলন আন্তর্জাতিক সব অংশীজনকে একত্রিত করে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজে পেতে সহায়তা করবে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বেড়ে ওঠা হতাশাগ্রস্ত তরুণদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে এটি কোনও বিস্ফোরণের দিকে না যায়।” তিনি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন, যা বাস্তুচ্যুত মানুষদের সহায়তা করতে এবং চলমান মানবিক সংকট মোকাবিলা করতে কার্যকর হবে।
ইউনূস আরও বলেন, “নিরাপদ অঞ্চলের নিরাপত্তা জাতিসংঘ দ্বারা নিশ্চিত করা উচিত। যখন সংঘাত শেষ হবে, তখন এই অঞ্চলের মানুষ সহজেই তাদের নিজ নিজ স্থানে ফিরে যেতে পারবে।”
আইসিসি প্রসিকিউটর করিম খান জানান, তারা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক। ইতোমধ্যেই শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
সাক্ষাতে রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি খলিলুর রহমান, এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রিয়াজ হামিদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে আয়োজিত এক মধ্যাহ্নভোজে করিম খান এবং তার প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন। রোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশের সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি দেন খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ রোম স্ট্যাটিউট স্বাক্ষরকারী প্রথম এশীয় দেশগুলোর একটি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সঙ্গে ভবিষ্যত সহযোগিতা আরও দৃঢ় হবে বলে আমরা আশা করি।”
-পার্বত্য সময়


